বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য বিপিডিবির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-১৫ ২১:৪৫:৪৪

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নিজস্ব অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন ও চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও নির্বাচন করা হয়েছে।
এর মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
ছাদভিত্তিক প্রকল্পেও অগ্রগতি
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিপিডিবির নিজস্ব ভবন ও জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য দুই বছর আগে ১৭টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় কাপ্তাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমিতে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনে রয়েছে। চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৩০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার একটি ব্যবস্থা চলতি বছরের জুনে এবং রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০ কিলোওয়াট-পিকের আরেকটি ব্যবস্থা ৫ সেপ্টেম্বর চালু হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টেও ২৬৮ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
যেসব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ বসছে
বিপিডিবি জানায়, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৩০০ কিলোওয়াট-পিক, কাটাখালীতে ৭৩, বাঘাবাড়ী পাওয়ার স্টেশনে ৬৫, ভোলা ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৯০, কক্সবাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২৩০, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩২, ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের ভবনগুলোতে ১ হাজার ৩০০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮৭, চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশনে ৩৯০, দোহাজারী-কালীআইশ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ১২২, শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্টে ৭৫০, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টে ৮৬ এবং ঘোড়াশাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১৭০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, সংস্থাটির মালিকানাধীন অব্যবহৃত ছাদ ও জমি কাজে লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এসব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের জলবায়ু-সংক্রান্ত অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রেও আগ্রহ বাড়তে পারে।

সৌরবিদ্যুৎ, বিপিডিবি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি


এ জাতীয় আরো খবর