জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ থেকে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সাধারণ বিতর্কের কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।
সাধারণ পরিষদের মিলনায়তনে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান এবং নির্ধারিত আসনে বসেন। এরপর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর আবার অনুষ্ঠিত হবে।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের সাধারণ বিতর্কে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত ও শান্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এবারের অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রম ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রয়েছে, তবে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী কর্মসূচি
২৩ সেপ্টেম্বর:আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর:সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক এবং মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। বিকেলে সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন তিনি।
২৫ সেপ্টেম্বর: জেপিমরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাতে নিউইয়র্ক সময় ১১টায় এমিরেটসের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচি অনুযায়ী,২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তারেক রহমান, জাতিসংঘ, সাধারণ বিতর্ক