রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬

'নীরব পুকুরের রহস্য-দ্বিতীয় পর্ব'

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৭-১৮ ১৪:৩৮:৪০
প্রতীকী ছবি

বন্ধুরা,আজ প্রকাশিত হচ্ছে 'প্রকৃতির গোয়েন্দারা' অধ্যায়ের দ্বিতীয় পর্ব। গত পর্বে রহস্যের সূত্র মিলেছে-নীরব পুকুরে ব্যাঙ নেই,ফড়িং নেই,নোংরা পানি ঢুকছে। আজ রহস্য আরও গভীর হতে যাচ্ছে-

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
'প্রকৃতির গোয়েন্দারা'

পর্ব–৩২:

পরদিন সকাল।

রাহি,অরণ আর শিসু আবার সেই পুকুরের পাড়ে এসে দাঁড়াল।
আজ তাদের সঙ্গে আছে একটি ছোট নোটবই,একটি বড় কাচ এবং একটি ক্যামেরা। শিক্ষক বলেছিলেন, 'প্রকৃতির রহস্য বুঝতে হলে আগে তাকে মন দিয়ে দেখতে শিখতে হবে।'

পুকুরের ধারে পৌঁছেই শিসু ফিসফিস করে বলল,
-'আজও কোনো ব্যাঙের ডাক নেই।'

অরণ হাঁটু গেড়ে পানির ধারে বসে রইল। কিছুক্ষণ পর সে বলল,
-'দেখো,পানির ওপর তেলের মতো একটা পাতলা আস্তরণ ভাসছে।'

রাহি নোটবইয়ে লিখল,
'নতুন সূত্র-পানির স্বাভাবিক রং বদলে গেছে।'

ঠিক তখনই বাতাসে কদমগাছের ডাল দুলে উঠল।
বটদাদুর শান্ত কণ্ঠ ভেসে এলো,
-'প্রকৃতি কখনো একদিনে অসুস্থ হয় না। ছোট ছোট অবহেলাই একদিন বড় সমস্যায় পরিণত হয়।'

তিন বন্ধু পুকুরের চারপাশে ঘুরতে শুরু করল।
হঠাৎ শিসু একটি সরু নালার দিকে আঙুল তুলে বলল,
-'ওদিকে দেখো!'
নালা দিয়ে ধীরে ধীরে ময়লাযুক্ত পানি পুকুরে এসে পড়ছে।
পানির সঙ্গে ভেসে আসছে প্লাস্টিকের টুকরো,শুকনো পাতা আর নানা ধরনের বর্জ্য।

অরণ বলল,
-'এভাবে প্রতিদিন নোংরা পানি ঢুকলে পুকুর কীভাবে ভালো থাকবে?'

ঠিক তখনই সেখানে এসে দাঁড়ালেন গ্রামের এক প্রবীণ জেলে।
তিনি মৃদু হেসে বললেন,
-'তোমরা কি এই পুকুরের রহস্য খুঁজছ?'

রাহি মাথা নাড়ল।
জেলে বললেন,
-'আমি ছোটবেলায় এখানে জাল ফেলতাম। তখন এই পুকুরে শিং, মাগুর, কৈ আর টেংরা মাছ ভরপুর ছিল। সন্ধ্যা হলেই ব্যাঙের ডাক শোনা যেত। এখন সেই শব্দগুলো শুধু স্মৃতি।'

শিসুর মুখটা মলিন হয়ে গেল।
-'সব আবার আগের মতো হবে না?'

জেলে উত্তর দিলেন,
-'হবে, যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি।'

ঠিক তখনই রাহির চোখে পড়ল পুকুরের এক কোণে ছোট ছোট কয়েকটি ব্যাঙাচি।
সে আনন্দে বলে উঠল,
-'দেখো! সব শেষ হয়ে যায়নি। এখনও আশা আছে।'

বটদাদুর কণ্ঠে যেন আনন্দের সুর।
-'প্রকৃতি খুব ধৈর্যশীল। তাকে একটু সুযোগ দিলে সে আবার নিজের শক্তিতে ফিরে দাঁড়ায়।'

তিন বন্ধু সিদ্ধান্ত নিল, তারা শুধু নিজেরা কাজ করবে না। স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে একটি 'পুকুর বন্ধু দল' গড়বে।
তারা প্রথমে পুকুরের অবস্থা সম্পর্কে সবাইকে জানাবে। তারপর বড়দের সঙ্গে কথা বলে নোংরা পানি যাতে সরাসরি পুকুরে না পড়ে, সেই উপায় খুঁজবে।

ফেরার সময় শিসু একবার পেছনে তাকাল।
পুকুরের জলে সূর্যের আলো ঝিলমিল করছে।
তার মনে হলো,পুকুরটি যেন আস্তে করে বলছে,
'ধন্যবাদ। আমার কথা কেউ শুনতে শুরু করেছে।'

আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি কোনো জলাশয়ে ময়লা বা ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলব না এবং অন্যদেরও জলাশয় পরিষ্কার রাখতে উৎসাহিত করব।

সবুজ তথ্যঃ
ব্যাঙকে প্রকৃতির 'জীবন্ত সতর্কবার্তা' বলা হয়। কোনো এলাকায় ব্যাঙের সংখ্যা দ্রুত কমে গেলে সেটি পরিবেশ দূষণ বা জলাশয়ের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে।

বন্ধুরা, আগামী পর্ব-৩৩-এ এই রহস্যের সমাধান হবে। তোমরা অপেক্ষা কর... 


এ জাতীয় আরো খবর