মহেশখালী (কক্সবাজার)
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ঘোনাপাড়া, পুটিবিলা,দাসিমাঝির
পাড়া সহ পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে বসতঘরে
পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। অনেক এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং
দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মহেশখালী পৌরসভা। মঙ্গলবার দিনব্যাপী জলাবদ্ধতাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পানিবন্দী পরিবারে খোঁজ খবর নেন, রাতেই তাদের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন মহেশখালী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু জাফর মজুমদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।
ঘরে ঘরে পানি, চরম দুর্ভোগে নিম্নআয়ের মানুষ সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বর্ষণ ও অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে পৌরসভার নিচু এলাকাগুলোতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর, শয়নকক্ষ ও আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।দাসিমাঝিরপাড়ার এক বাসিন্দা জানান,“দুই দিন ধরে ঘরের ভেতর পানি। রান্না করতে পারছি না। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। প্রশাসনের দেওয়া খাদ্য সহায়তা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।”
পুটিবিলার আরেক বাসিন্দা বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই অবস্থা হয়। পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। ড্রেনগুলো অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে আছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ দখল এবং দীর্ঘদিন খাল-নালা সংস্কার না হওয়ায় সামান্য ভারী বর্ষণেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
প্রশাসনের জরুরি তৎপরতা,দুর্ভোগের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত মাঠে নামে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্দী পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
মহেশখালী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন,“জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারকে একা রাখা হবে না। পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পানি নিষ্কাশন ও দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ চলছে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু জাফর মজুমদার বলেন, “পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও যাতে খাদ্য সংকট বা মানবিক বিপর্যয় তৈরি না হয়,সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা প্রদান করা হবে।
দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা,স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,মহেশখালী পৌরসভার জলাবদ্ধতা নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে একই চিত্র দেখা যায়। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং খাল দখলের কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না।
তাদের দাবি, শুধুমাত্র সাময়িক ত্রাণ সহায়তা নয়, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি খাল পুনঃখনন, ড্রেন সংস্কার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
একইসঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত মানুষের প্রত্যাশা সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে যেন প্রতি বর্ষার পুনরাবৃত্ত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায় মহেশখালী পৌরবাসী।