কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং ব্র্যাডলি বারকোলার একটি গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাইকেল ওলিসে দুটি গোলে সহায়তা করে জয়ের অন্যতম নায়ক হন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।
৮০ হাজার ৬৬৩ দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। বল দখল, আক্রমণ ও লক্ষ্যে শট—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল দিদিয়ের দেশ্যমের দল। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি তারা।
২০ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে এমবাপ্পে জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। পরে জুল কুন্দের পাস থেকে এমবাপ্পের শট পোস্টে লাগে। আদ্রিয়েন রাবিওর প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং ওলিসের দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
অবশেষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে ওসমান দেম্বেলে ও ওলিসের যৌথ প্রচেষ্টায় বল পেয়ে গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। সেই গোলেই বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
বিরতির পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় সুইডেন। কিন্তু ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৪ মিনিটে আবারও ওলিসের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এমবাপ্পে।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে। এতে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির সমান হয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮, যা মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল কম।
ম্যাচজুড়ে এমবাপ্পে ও ওলিসের গতিময় আক্রমণে বারবার বিপাকে পড়ে সুইডেনের রক্ষণভাগ। ওসমান দেম্বেলে, বারকোলা ও দেজিরে দুয়ের সমন্বয়ে ফ্রান্সের আক্রমণ ছিল ধারালো। অন্যদিকে ভিক্টর গিয়োকেরেস, আলেকজান্ডার ইসাক ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাকে নিয়ে আক্রমণ সাজালেও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি সুইডেন।
মায়ের শেষকৃত্য শেষে দলে ফিরে এই ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। বিশ্বকাপ শেষে দীর্ঘ ১৪ বছরের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছেন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী কোচ দেশ্যম।
এবারের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও নকআউট পর্বে এই একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ফরাসিরা। সেই স্মৃতি এবারও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে এমবাপ্পেদের।
ফ্রান্স, এমবাপ্পে, বিশ্বকাপ