নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেই শক্তির জানান দিল যুক্তরাষ্ট্র। ফোলারিন বালোগুনের দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং জিও রেইনার চোখধাঁধানো শেষ মুহূর্তের গোলের সুবাদে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্বাগতিকরা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে গড়ে ওঠা দ্রুত আক্রমণে বালোগুনের উদ্দেশে বাড়ানো বল প্রতিহত করতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ডামিয়ান ববাদিয়া।
শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ। ২৮তম মিনিটে বালোগুন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
মাত্র তিন মিনিট পর বাম প্রান্ত দিয়ে অ্যান্টনি রবিনসনের তৈরি করা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে সহজ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বালোগুন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে আবারও গোলের দেখা পান এই ফরোয়ার্ড। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখায় যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ে কার্যত রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল।
তবে বিরতির পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলায়। দলের অন্যতম ভরসা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ মাঠ ছাড়ার পর স্বাগতিকরা কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেলতে শুরু করে। সেই সুযোগে আক্রমণে ওঠে প্যারাগুয়ে।
এক পর্যায়ে হুলিও এনসিসোর তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বদলি খেলোয়াড় মরিসিও একটি গোল শোধ করেন। এতে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিদের।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা বাস্তবে রূপ নেয়নি। যোগ করা সময়ে জিও রেইনা দূরপাল্লার দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচের শেষ কথা বলে দেন। তার নান্দনিক গোলেই ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
এই জয়ের ফলে ‘ডি’ গ্রুপে শক্ত অবস্থান তৈরি করল স্বাগতিকরা। একই গ্রুপে থাকা অন্য দলগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক।
তবে বড় জয়ের আনন্দের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে পুলিসিচকে ঘিরে। বিরতির সময় মাঠ ছাড়তে হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নজর রাখছে দল।
২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্যের স্বপ্ন দেখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই জয় নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ হয়ে থাকল।
কী-শব্দ: যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বকাপ ফুটবল, বালোগুন