শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

স্বাস্থ্য থেকে প্রযুক্তি: করছাড়ে স্বস্তির বার্তা, কিছু পণ্যে বাড়বে দাম

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৬-১৩ ০০:১২:০৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জনকল্যাণ, প্রযুক্তি বিকাশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উৎপাদনমুখী খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে শুল্ক ও কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে কিছু পণ্যের ওপর বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

চিকিৎসা খাতে স্বস্তির ইঙ্গিত
প্রস্তাবিত বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা, হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট, চোখের কৃত্রিম লেন্স, ক্যানসারের ওষুধ, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ওপর কর ও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সহায়ক যন্ত্রপাতিও কর সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এ খাতের মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রযুক্তি পণ্যে করছাড়
তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার, এসএসডি এবং বিভিন্ন কম্পিউটার যন্ত্রাংশে কর সুবিধার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের ব্যয় কমতে পারে এবং ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহায়তা
শিশুখাদ্য, মসলা, খেজুর, সার, পশুচিকিৎসা ওষুধ, কীটনাশক, বালাইনাশক এবং পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্যখাদ্যের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব যানবাহনে উৎসাহ
পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি, বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, চার্জিং যন্ত্রপাতি এবং চার্জিং স্টেশন আমদানিতে কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সৌরশক্তি খাতে নতুন গতি
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কাঠামোগত উপকরণের ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিক পণ্যে সুবিধা
মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, ইলেকট্রিক কুকার, ইনডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, এটিএম ও সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন পণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে বাজারমূল্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পেও কর সুবিধা
গিটার, পিয়ানো, বেহালা, চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও যন্ত্রাংশ, প্রসাধনী সামগ্রী এবং অলঙ্কার খাতেও কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

যেসব পণ্যে বাড়তে পারে দাম
কর ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে কাজুবাদাম, আমদানিকৃত পাঙাশ মাছের ফিলেট, বিভিন্ন স্তরের সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো পণ্য, মাঝারি ক্ষমতার পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি, আমদানিকৃত ওয়াশিং মেশিন, জিপসাম বোর্ড, কপারের বিভিন্ন পণ্য, শিল্পখাতে ব্যবহৃত রেজিন এবং কয়েক ধরনের কাঁচামাল।

তামাকপণ্যে কঠোর অবস্থান
ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিল্পের কাঁচামালে বাড়তি শুল্ক
দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে কপার টিউব, কপারের তার, কোল্ড-রোল্ড কয়েল, পিভিসি ও পিইটি রেজিনসহ কয়েকটি শিল্প কাঁচামালের আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের এই কর ও শুল্ক নীতির মাধ্যমে একদিকে স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষার লক্ষ্যও সামনে রাখা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।

কী-শব্দ: বাজেট ২০২৬-২৭,করছাড়,পণ্যমূল্য পরিবর্তন,অর্থনীতি, জাতীয় বাজেট


এ জাতীয় আরো খবর