বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

২১ বছরের অপেক্ষার অবসান,অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-০৯ ২১:২৫:২২
ছবি: সংগৃহীত।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবারও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
২০০৫ সালে কার্ডিফে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ওয়ানডে ক্রিকেটে অসিদের বিপক্ষে আর কোনো জয় আসেনি। অবশেষে ২১ বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দলীয় ১০ রানে সাজঘরে ফেরেন উদ্বোধনী ব্যাটার সাইফ হাসান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজনের জুটিতে শতরানের ভিত্তি পায় বাংলাদেশ।
দারুণ ছন্দে থাকা তানজিদ ৪৪ বলে ৫৪ রান করে বিদায় নিলেও ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান শান্ত। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক তুলে নেওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটার ৮৬ বলে ৬৭ রান করে আউট হন। লিটন দাস ব্যর্থ হলেও মধ্যক্রমে তাওহিদ হৃদয় ও দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।
হৃদয় ৩১ রান করে ফিরলেও অপর প্রান্তে অবিচল ছিলেন মোসাদ্দেক। জীবনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি খেলেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন।
মোসাদ্দেক ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন, যা তার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সেরা। তাসকিন ২০ রান যোগ করে দলকে বাড়তি শক্তি দেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস তিনটি এবং ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান বিদায় করেন মার্নাস লাবুশেনকে।
শুরুর ধাক্কা সামলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। তবে নাহিদ রানার গতির সামনে সেই জুটি বেশিদূর এগোয়নি। পরে অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গে কনোলি আরেকটি জুটি গড়লেও মোসাদ্দেকের স্পিনে সেটিও ভেঙে যায়।
এরপর নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করার পর বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও বৃষ্টি না থামায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।
ব্যাট হাতে অপরাজিত ৮৬ রান এবং বল হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মোসাদ্দেক হোসেন।
তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ জুন, একই ভেন্যু মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

কী-শব্দ: বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া,মোসাদ্দেক হোসেন,ঐতিহাসিক জয়


এ জাতীয় আরো খবর