সুদানের উত্তর কর্ডোফান রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবেইদে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, চিকিৎসা সূত্র এবং মানবাধিকারকর্মীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
২০২৩ সালে সুদানে সংঘাত শুরুর পর এল-ওবেইদে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে এই ঘটনাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটিতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শহরের পূর্বাঞ্চলের আল-মাতার এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ফলে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়ায় অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। উদ্ধার কার্যক্রম চললেও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক বাসিন্দা জানান, হামলার তীব্রতায় কিছু বাড়ি এতটাই বিধ্বস্ত হয়েছে যে সেখানে জীবিত কাউকে পাওয়া কঠিন বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে শহরের আল-কুব্বা এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তার এক আত্মীয়ও রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে একের পর এক মরদেহ আনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত দুই শিশু এবং এক নারী রয়েছেন, যিনি ওই শিশুদের মা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া হামলা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল আবাসিক এলাকা, একটি জানাজা-পরবর্তী শোকসভা এবং খাদ্যপণ্য বহনকারী একটি ট্রাক।
সংগঠনটি হামলার জন্য র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে দায়ী করলেও এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এল-ওবেইদ শহরটি কয়েক মাস ধরে আংশিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে। এটি দারফুর অঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং দেশের পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
কী-শব্দ: সুদান, ড্রোন হামলা, এল-ওবেইদ