রবিবার, জুন ৭, ২০২৬

১৬ দিনের বিরতির পর আজ মুখর শিক্ষাঙ্গন,শ্রেণিকক্ষে ফিরছে লাখো শিক্ষার্থী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৬-০৬-০৭ ১০:০৮:০২
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও শুরু হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। ঈদুল আজহা, সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি অবকাশ মিলিয়ে টানা বিরতির পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সরব হয়ে উঠছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছুটি-পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ থেকেই স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম চালু হচ্ছে।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পাঠসূচি প্রস্তুত এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আগাম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা নতুন উদ্যমে পাঠদান শুরু করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাও সম্পন্ন করেছেন।
বিশেষ করে আগামী বছরের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদান, পুনরালোচনা ক্লাস এবং পাঠ্যসূচি দ্রুত সম্পন্নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও নজর রাখছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের আবার নিয়মিত শিক্ষাজীবনের ছন্দে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ছুটির আমেজ কাটিয়ে পাঠে মনোযোগী হতে অনেকের কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই প্রথম কয়েকদিন শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে উৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
রাজধানীর এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাঠদানের পাশাপাশি তাদের প্রাণবন্ত রাখতে সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।
অভিভাবকদের মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাকে ঘিরে স্বস্তি দেখা গেছে। তাদের মতে, দীর্ঘ ছুটিতে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছিল। এখন আবার নিয়মিত ক্লাস শুরু হওয়ায় তারা নির্ধারিত রুটিনে ফিরতে পারবে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পাঠের বাইরে থাকলে অনেকের মনোযোগ কমে যেতে পারে। ফলে ছুটি-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহী করে তোলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতে সকালবেলার যানচাপও কিছুটা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের যাতায়াতের কারণে সড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ব্যস্ততা দেখা দিতে পারে।

কী-ওয়ার্ড: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,পাঠদান,শিক্ষার্থী


এ জাতীয় আরো খবর