মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬

এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • মানচিত্রের ভেতর লুকানো আগুন
  • ২০২৬-০৫-১২ ০৯:০৪:৪৫

রাত গভীর হলে শহরটা বদলে যায়,
বিলবোর্ডের আলোয় তখন
মানুষের মুখ নয়,
দেখা যায় ক্লান্তির ছায়া।

ফুটপাতের শিশুটি আকাশ দেখে ভাবে-
চাঁদ কি সত্যিই সবার?
নাকি সেটাও ভাগ হয়ে গেছে
কাচঘেরা উঁচু দালানের মতো!

একজন কৃষক ভোরে মাঠে যায়,
তার পায়ের ফাটলে জমে থাকে
পুরো দেশের অর্থনীতি।
তবু সংবাদে আসে না তার নাম,
শুধু আসে বাজারদর,
আর মুনাফার হাসি।

নদী এখন আর আগের মতো গান গায় না,
তার বুক কেটে নেয় লোভী যন্ত্র,
তবু নদী প্রতিবাদ করে না-
কারণ সে জানে,
মানুষ এখন জল থেকেও
বেশি তৃষ্ণার্ত ক্ষমতার জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে
স্বপ্নের বদলে ঝুলে থাকে উদ্বেগ,
একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তির নিচে
হাজার মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
তবু কেউ হারে না পুরোপুরি,
কারণ এই দেশের যুবকেরা
ধ্বংসস্তূপ থেকেও ভবিষ্যৎ খুঁজতে জানে।

রাজপথে যখন স্লোগান ওঠে,
মনে হয় শহরটা এখনও বেঁচে আছে।
কারণ মৃত জাতি কখনও প্রশ্ন করে না,
কখনও অন্যায়ের চোখে চোখ রাখে না।

একজন মা রাত জেগে অপেক্ষা করেন,
তার সন্তানের ফেরার শব্দের জন্য।
এই অপেক্ষাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কবিতা,
যেখানে কোনো ছন্দ নেই,
তবু আছে অনন্ত ভালোবাসা।

আমরা অদ্ভুত এক সময় পার করছি-
এখানে সত্যকে সাজতে হয় প্রমাণ নিয়ে,
আর মিথ্যা হাঁটে প্রভাবশালী পোশাকে।
তবু কোথাও না কোথাও
একটি মোমবাতি জ্বলেই থাকে,
যা অন্ধকারকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়-
সব রাতেরই শেষ আছে।

একদিন হয়তো ইতিহাস লিখবে,
এই প্রজন্ম খুব বেশি সুখী ছিল না,
কিন্তু তারা মাথা নত করেনি।
তারা ভাঙা স্বপ্নের ভেতর থেকেও
নতুন সূর্যের নকশা এঁকেছিল।

আর সেদিন
মানচিত্রের প্রতিটি ধুলোবালিও বলবে-
মানুষ এখনও শেষ হয়ে যায়নি,
মানুষ এখনও আগুন বাঁচিয়ে রেখেছে।


এ জাতীয় আরো খবর