শনিবার, মে ৯, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়লেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে হাম,৯৯ শতাংশ টিকা দেয়া সম্পন্ন

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৫-০৮ ২২:২০:৫৬
ফাইল ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশের বিভিন্ন  অঞ্চলে এখনও লাগামহীন তান্ডব চালালেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে হাম পরিস্থিতি। গত  এপ্রিল ও মার্চ মাসে হাম চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছর  দেশের রাজশাহী অঞ্চলেই এর প্রাদূর্ভাব ঘটে প্রথম ধাক্কায়।  ফলে এই অঞ্চলেই এটি নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম জরুরী ভিত্তিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ফলশ্রুতিতে  এপ্রিলের শেষ থেকেই থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমে আসছে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হাম রোগি। গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত  সন্দেহজনক হাম আক্রান্তদের জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলার স্বাস্থ্য সূত্রগুলো। ২০২৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশে সবচাইতে ভয়ানকভাবে হাম কবলিত জেলাগুলোর অন্যতম।
সূত্রগুলো বলছে, এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে জেলায় প্রথম পর্যায়ে জরুরীভাবে সর্বাধিক হাম কবলিত সদর,শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট এই ৩ উপজেলায় শিশুদের হামের এমআর টিকা দেয়া শুরু করা হয়। টিকাদানের ওই কর্মসূচীতে অন্তভূক্ত ছিল  সর্বাধিক আক্রান্ত দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলা। ওই কর্মসূচীতে জেলার ৩ উপজেলায় ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮৭ শিশুকে টিকা দেয়া হয়। এছাড়া ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে সন্দেহজনক রোগিদের অপূষ্টি দূর করে  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উচ্চক্ষমতার (৫০ হাজার থেকে ২ লক্ষ আইইউ)  ভিটামিন এ খাওয়ানো শুরু হয়। সেই সাথে চিকিৎসকরা রোগির স্বজনদের  অব্যহত পরামর্শ দিতে থাকেন শিশুদের ‘হোম আইসোলেশন’ রাখার জন্য। যাতে অতি ছোঁয়াচে এই রোগ বিশেষ করে অন্য শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে না পড়তে পারে। সেই সাথে  শিশুদের পূষ্টির প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের শিশুদের পূষ্টি খাবার দিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  বিশেষ করে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতন করানো হচ্ছে।
এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে অব্যহতভাবে প্রচার চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষও এখন এই রোগের ব্যাপারে অনেক সচেতন। এ সব মিলিয়ে অসুখটির প্রকোপ কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা.এ,কে,এম শাহাব উদ্দীন বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে দেয়া প্রথম পর্যায়ের টিকা কাজ করা শুরু করেছে। ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে এটি  কাজ করা শুরু করে। গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় পর্যায়ের টিকাও কাজ শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে জেলার বাকী দুই উপজেলা গোমস্তাপুর ও নাচোলের শিশুদের সমন্বয় করা হয়েছে। হোম আইসোলেশন এই রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধে অত্যন্ত কার্যকর। ভিটামি এ  অপূষ্টি রুখতে কাজ করছে। সব মিলিয়ে  জেলায় ওই রোগের  প্রকোপ এখন কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়,সন্দেহভাজন হামে জানুয়ারীতে ২ ও ফেব্রুয়ারীতে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হবার পর মার্চে লাফ দিয়ে রোগি বাড়তে থাকে। এপ্রিলে তা অনেকটা মহামারীর আকার ধারণ করে। তিল ধারণের স্থান ছিল না জেলা হাসপাতালে। দিনে প্রায়  শত রোগিও ভর্তি হয়েছে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে। অনেক সংকটাপন্ন রোগিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মার্চে ৬ ও এপ্রিলের ২৪ তারিখ ১ জন সহ ৭ জন শিশু সন্দেহজনক হামে মারা গেছে।
জানুয়ারী থেকে শুক্রবার(৮ মে) পর্যন্ত ১ হাজার ২৪০ জন রোগি জেলার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার ভর্তি রয়েছে ১০ জন। মে মাসের প্রথম ৭দিনে ভর্তি হয়েছে ৯২ রোগি। এদিকে চলমান তৃতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচীতে টার্গেট ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৯৭ জন শিশুর মধ্যে ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৪৩ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। যা লক্ষমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ। জেলায় এ পর্যন্ত ২০৩ জনের স্যাম্পল পরীক্ষা করে ৪৩ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে।

তথ্য সহায়তা- জেলা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী সুপারিনটেন্ডেন্ট (ইপিআই) মো. পলাশ ও জেলা হাসপাতালের পরিসংখ্যান শাখার সিনিয়র স্টাফ নার্স শামসুন্নহার সোনিয়া।

 


এ জাতীয় আরো খবর