সোমবার, মে ৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমে আসছে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগি

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৫-০৪ ১৯:৩৯:১৮

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
গত এপ্রিল ও মার্চ মাসে ভয়াবহ তান্ডব চালানোর পর মে মাসের প্রথম থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধীরে ধীরে কমে আসছে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগির সংখ্যা। গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত  সন্দেহজনক হাম আক্রান্তদের জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার স্বাস্থ্য সূত্রগুলো। ২০২৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশে সবচাইতে ভয়ানকভাবে হাম কবলিত জেলাগুলোর অন্যতম।
সূত্রগুলো বলছে, জেলায় গত এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে জেলায় প্রথম পর্যায়ে জরুরীভাবে সর্বাধিক হাম কবলিত সদর,শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট এই ৩ উপজেলায় শিশুদের হামের এমআর টিকা দেয়া শুরু করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক রোগিদের অপূষ্টি দূর করে  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উচ্চক্ষমতার ( ৫০ হাজার থেকে ২ লক্ষ আইইউ)  ভিটামিন এ খাওয়ানো শুরু হয়। সেই সাথে চিকিৎসকরা রোগির স্বজনদের  অব্যহত পরামর্শ দিতে থাকেন শিশুদের হোম আইসোলেশন রাখার জন্য। যাতে অতি ছোঁয়াচে এই রোগ বিশেষ করে অন্য শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে না পড়তে পারে। সেই সাথে  শিশুদের পূষ্টির প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে শিশুদের খাবার প্রতি জোর দিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  বিশেষ করে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতন করানো হচ্ছে।
এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে অব্যহতভাবে প্রচার চলছে। মানুষও এখন এই রোগের ব্যাপারে অনেক সচেতন। এ সব মিলিয়ে অসুখটির প্রকোপ কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা.এ,কে,এম শাহাব উদ্দীন বলেন,প্রথম পর্যায়ের টিকা কাজ করা শুরু করেছে। হোম আইসোলেশন  এই রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধে অত্যন্ত কার্যকর। ভিটামি এ  অপূষ্টি রুখতে কাজ করছে। সব মিলিয়ে  জেলায় ওই রোগের  প্রকোপ এখন কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে।
জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক,ডা.মশিউর রহমান বলেন,টিকা কাজ করতে গড়ে ২৮ দিন সময় লাগে। জেলার বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলেআতে টিকা দেয়া এক মাস পার হয়েছে।  সম্প্রতি ভর্তি সংখ্যা দেখে বলা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমে আসছে রোগটির প্রকোপ।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়,জানুয়ারীতে ২ ও ফেব্রুয়ারীতে ৫ জন জেলা হাসপাতালে ভর্তি হবার পর মার্চে লাফ দিয়ে রোগি বাড়তে থাকে। এপ্রিলে তা অনেকটা মহামারীর আকার ধারণ করে। তিল ধ্রাণের স্থান ছিল না জেলা হাসপাতালে। দিনে প্রায়  শত রোগিও ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। অনেক সংকটাপন্ন রোগিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মার্চে ৬ ও এপ্রিলে ১ জন সহ ৭ জন শিশু সন্দেহজনক হামে মারা গেছে।
এ বছর জেলায় সোমবার(৪ মে) পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৬ জন রোগি জেলার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। । সোমবার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪৮ জন। এদিন নতুন করে ৯ জন ভর্তি হয়।  এর আগে গত রোবাবার(৩মে) ১৪, শনিবার(২মে) ১৮, শুক্রবার(১মে) ১৬,বৃহস্পতিবার(৩০ এপ্রিল) ১৮,বুধবার (২৯ এপ্রিল) ২০, মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) ২৯ ও সোমবার(২৭ এপ্রিল) ৩১ জন রোগি ভর্তি হয়েছিল।
এদিকে জেলায় গত ২০ এপ্রিল থেকে চলমান তৃতীয় পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচীতে টার্গেট ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৯৭ জন শিশুর মধ্যে ১লক্ষ ৯৪ হাজার ৪৪৫ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। যা লক্ষমাত্রার ৯৬ শতাংশের বেশি। জেলায় এ পর্যন্ত ২০৩ জনের স্যাম্পল পরীক্ষা কওে ৪৩ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে।


এ জাতীয় আরো খবর