আমি অনার্য, আমি ব্রাত্যজন, বাংলাভাষী
আমি তোমার চক্ষুশূল চিরদিন।
আমি ভুসুকু বাঙালি
আমার হাঁড়িতে ভাত নেই,
আমি অপাংক্তেয়, রৌরব নরকে আমার অধিস্থান।
তোমার ওই দেবভাষা আমি বুঝতে পারি না।
বুঝতে পারি না ফার্সি বয়েত।
আমাকে দেখলে তোমার নাসিকা কুঞ্চিত হয়
আমার ভাষায় কথা বললে
তোমার অভিজাত্যে কলংক লাগে।
তবু আমি টিকে আছি পুন্ড্রধামে
আমার অবয়ব উৎকীর্ণ পাহাড়পুরে
আমি অনার্য, কৈবর্ত, কৃষক, মালো
আমার দেহে রক্তের দাগ, ঘামের গন্ধ, মাটির সৌরভ।
আমার ভাষা? সে তো পাখির জবান।
তবু আমি সোনাভানের পুঁথিপাঠ করি, গাই মনসার গীত।
এসো আর্যজন, ইংরেজ, বর্গির দল, এসো মোগল পাঠান
আমারই কণ্ঠে শোনো মঙ্গলসন্ধ্যার গান।
বাংলা আমার আজনমের দ্রোহ
সংগ্রামের চিরন্তন গৌরব গাঁথা।
এই ফাল্গুনে আমি সারা বিশ্বে
ছড়িয়ে দিই মাতৃভাষার অনন্ত আগুন, বিপ্লবের শিখা অনির্বাণ।
আমি কথা বলি বিশুদ্ধ বাংলায়।