বলা হয়েছিল-
এটা কিছুই না,
সামান্য ক্ষতি।
কাগজে লেখা হলো কয়েকটা সংখ্যা,
কেউ হিসাব করল লাভ-ক্ষতির খাতা,
কেউ বলল-
এটা তো উন্নয়নের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
কিন্তু যে ঘরটা ভেঙে পড়ল
তার কাছে সেটা কোনো সংখ্যা না-
ওটা ছিল শীতের রাতে উষ্ণতা,
গরম ভাতের গন্ধ,
একটা পরিবারের নিরাপদ ঘুম।
যে নদীটা একটু সরে গেল মানচিত্র থেকে,
তাকে বলা হলো-প্রাকৃতিক পরিবর্তন।
কিন্তু জেলের জালে আর মাছ উঠে না,
তার সন্তানের স্কুল ফি জমে যায়,
তার স্ত্রী নীরবে হিসাব কষে
কতটা কমালে রান্না চলবে।
এই শহরে প্রতিদিন
কিছু মানুষ অদৃশ্য হয়ে যায়-
কেউ চাকরি হারায়,
কেউ স্বপ্ন,
কেউ নিজের ওপর বিশ্বাস।
তবু রিপোর্টে লেখা থাকে-
সবকিছু নিয়ন্ত্রণে।
সামান্য ক্ষতি-
একটা শব্দ,
যার আড়ালে লুকানো থাকে
হাজার মানুষের নীরব কান্না।
যে শ্রমিকটা সিঁড়ি থেকে পড়ে গেল,
তার নামটা কেউ জানল না,
শুধু বলা হলো-
একটি দুর্ঘটনা।
যে মেয়েটা প্রতিদিন একটু একটু করে
নিজেকে হারিয়ে ফেলছে
অন্যায়ের সামনে চুপ থাকতে থাকতে,
তার ক্ষতিটাও কেউ দেখে না-
কারণ সেটা চোখে দেখা যায় না।
আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি
সবকিছুকে ছোট করে দেখতে,
দুঃখকে ভাগ করে নিতে শিখিনি,
বরং তাকে নাম দিয়েছি-
সামান্য।
কিন্তু সত্যি হলো-
কোনো ক্ষতিই সামান্য নয়
যদি সেটা কারও জীবনের ভেতর
একটা স্থায়ী ফাটল তৈরি করে।
একদিন এই ছোট ছোট ক্ষতিগুলো
জমে উঠবে পাহাড়ের মতো,
আর আমরা তখন খুঁজব-
কোথায় শুরু হয়েছিল ভাঙন।
হয়তো সেই দিনই বুঝব,
যে ক্ষতিকে আমরা হালকা করে দেখেছি
সেটাই ছিল সবচেয়ে গভীর আঘাত।
তাই আজ,
যখন তুমি বলো-
এটা সামান্য ক্ষতি,
একবার ভাবো-
কার জীবনের কতটা অংশ
তুমি সহজে মুছে দিচ্ছো।
কারণ কোনো ক্ষতিই
আসলে সামান্য নয়-
প্রতিটা ক্ষতির ভেতরই
একটা পূর্ণ জীবনের ভাঙা গল্প থাকে।