চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হবার পর সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর অন্যতম চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখনও রোগের ব্যাপক প্রকোপ চলছে। প্রতিদিনই প্রচুর রোগি আসছে হাসপাতালে। প্রচন্ড গরমে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
শুক্রবার ( ২৪ এপ্রিল) বিকালে সরেজমিনে জেলার প্রধান চিকিৎসালয় ২৫০ শয়্যার জেলা সরকারি হাসপাতালের কোনায় কোনায় ফ্লোরে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন রোগি ও তাদের অভিভাবকরা। এমনকি র্যাম্পেও (সিঁড়ির বদলে হুইল চেয়ার বা ষ্টেচারে রোগি নিয়ে উপরে ওঠার ব্যবস্থা) ঠাঁই নিয়েছেন রোগিরা। প্রায় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা। তবে চিকিৎসক,নার্স ও ষ্টাফরা প্রানান্ত চেষ্টা কওে যাচ্ছেন রোগিদের ঠাঁই দিয়ে চিকিৎসা দেবার। তবে রোগির চাপে হাসপাতালে মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.মশিউর রহমান বলেন, রোগিদের আরেকটু কিভাবে ভালভাবে রাখা যায় চেষ্টা করা হচ্ছে। এ মুহুর্তে হাসপাতালে জনবল ও স্থান দুটোরই কমতি রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার জেলায় হাম সন্দেহে নতুন করে ৪৩ জন জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে। এখন হাসপাতালে ৮৬ জন সন্দেজনক অতি ছোঁয়াচে হাম রোগি চিকিৎসাধীণ। যার বেশিরভাগই শিশু। জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোববার জেলা হাসপাতালে আরও ৩৯ রোগি ভর্তি হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, এছাড়াও জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ৪ জন রোগি ভর্তি রয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, জেলায় হাম সন্দেহে গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ৯৯৬ রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ৯৪৮ জন শুধুমাত্র জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
জেলায় সন্দেহজনক হামে আক্রাস্ত ৬ শিশু এখন পর্যন্ত মারা গেছে। মার্চে সকল শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়াও কয়েকটি মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকলেও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা সেগুলো তালিকাভূক্ত করে নি। জেলার ৫ উপজেলায় চলমান হামের টিকাদান কর্মসূচীতে শুক্রবার(২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৭২ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। যা টার্গেট ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৯৭ জনের ৮১ শতাংশের বেশি। এদিকে এ পর্যন্ত জেলা থেকে পাঠানো ১৭৪ জনের নমুণা পরীক্ষা করে ৪৩ জনকে পজিটিভ পাওয়া গেছে।