কোম্পানীগঞ্জ(নোয়াখালী)প্রতিনিধি
দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলছে পাকা ধান কাটার কার্যক্রম। মাঠে মাঠে এখন কৃষাণ-কৃষাণীদের দারুণ ব্যস্ততা। চলছে ধান কাটা ও সংরক্ষণের কাজ। এরই মধ্যে অনেক কৃষকের গোলাতেও বোরো ধান উঠতে শুরু করেছে। গ্রামীণ জনপদের বেশিরভাগ জায়গাতেই সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাকা ধান কর্তন, ঝাড়াই, সেদ্ধ ও গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়-কুটো শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা উৎসব । উপজেলার কৃষকরা এখন ধান কাটায় ব্যস্ত। যা প্রাণচাঞ্চল্য এনে দিয়েছে গ্রামীণ জনপদে।
আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক-কৃষাণীরা। সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার ফলে ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষক আবু তাহের জানান, চলতি মৌসুমে তিনি পাঁচ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সার্বিক পরামর্শে তার জমিতে এবার ভালো ফলন হয়েছে।খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ও বাজারে ধানের ভালো দাম থাকায় তারা এবার ভালো লাভের আশা করছেন।
কৃষক আলা উদ্দিন বলেন, এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আমরা কম খরচে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। যদি বাজারে দাম ঠিক থাকে, তাহলে এই ধান আমাদের পরিবারের সচ্ছলতা আনবে।
কৃষক মৌমিনুল হক বলেন, আমি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি।কৃষি অফিসের পরামর্শে আলহামদুলিল্লাহ, ভালো ফলন হয়েছে।
ইমাম হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, এবার ৫০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। ধানও অনেক ভাল হয়েছে।আশা করছি, এবার ধান আবাদে ভালো লাভবান হবো।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো: বেলাল হোসেন বলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এবারে বোরো ধানের ১০১০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জন হয়েছে ১০৫৩০ হেক্টর।
রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। ধান এখন মাঠ থেকে ঘরে তুলতে শুরু করেছে কৃষকরা।৬০-৭০ % ধান কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ও রিপার মেশিন দিয়ে কর্তন করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ভালো ফলনে কৃষকরা আনন্দিত।সরকার বোরো ধান সংগ্রহের মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করেছেন।