বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষকদের জ¦ালানি সংকট মোকাবেলায় ‘বিশেষ কৃষি জ¦ালানি কার্ড’ ব্যবস্থা,হয়রানি

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৪-২২ ২০:৪০:৩৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষকদের জন্য চলমান জ¦ালানি সংকট মোকাবেলায় চালু করা হয়েছে ‘বিশেষ  কৃষি জ¦ালানি কার্ড’ ব্যবস্থা। প্রায় ৩ সপ্তাহ পূর্বে এ ব্যবস্থা চালু হলেও সকল কৃষক এই ব্যবস্থার  আওতায় আসে নি। আবার এই ব্যবস্থায় কৃষকদের সম্পূর্ণ চাহিদাও মিটছে না। এছাড়া  এ পদ্ধতিতে যে টুকু  জ¦ালানি পাওয়া যাচ্ছে তা সংগ্রহেও পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। ব্যয় বাড়ছে। সময় নষ্ট হচ্ছে। তবে পদ্ধতিটি  কিছুটা সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
 কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতির আওতায় কৃষকরা প্রথমে তাঁর জমির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নির্দিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকের জমির পরিমান,ফসলের প্রকার, কি ধরণের মেশিনের জন্য পুরো মৌসুমে কি পরিমান জ¦ালানি ওই কৃষকের দরকার তা যাচাই করে নিরুপণ করছেন। এরপর তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় জ¦লানি বরাদ্দ করছেন। এরপর ওই কৃষক সংশ্লিস্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট থেকে ওই  বরাদ্দ অনুমোদন করাচ্ছেন। এরপর সংশ্লিস্ট  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চূড়ান্ত অনুমোদন করলে কার্যকর হচ্ছে বিশেষ কার্র্ড। এরপর কৃষক তাঁর জন্য নির্ধারিত  ফিলিং ষ্টেশনে গিয়ে পুরো মৌসুমের জন্য দফায় দফায় বরাদ্দ জ¦ালানি সংগ্রহ করছেন।
সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের গোকুল গ্রামের কৃষক রমাজান আলী বলেন, ১০ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান করেছি। রয়েছে মাড়াই মেশিন। স্বচ্ছন্দে মৌসুম শেষ করতে প্রয়োজন প্রায় ২০০  লিটার জ¦ালানি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বরাদ্দ দিয়েছিলেন ১০০ লিটার ডিজেল। কৃষি কর্মকর্তা আবার সেটা কমিয়ে ৮০ লিটার করেছেন। এখন ৮০ লিটার সংগ্রহে বাড়ির নিকটের পাম্পের বদলে আরও ১০ কিলোমিটার দূরের পাম্পে গিয়ে লাইন দিয়ে দফায় দফায়  অনেক ভোগান্তি করে তেল নিতে হচ্ছে। একবারে তেল পাচ্ছি না। সময় নষ্ট হচ্ছে। খরচও বাড়ছে। কার্ডটি করতেই অনেক সময় লেগেছে ও ভোাগান্তি হয়েছে।
সদরের মহেষপুর গ্রামের আমচাষী মাইনুল ইসলাম বলেন,১৭ বিঘা  বাগানের জন্য দেড়শ লিটার পেট্রোল ও ডিজেল প্রয়োজন। বরাদ্ধ পেয়েছি ৮০ লিটার। স্প্রে ও সেচ পাম্পের জন্য এই তেল দরকার। বরাদ্দ অনেক কম। এছাড়া কাজ ফেলে কার্ড ও তেল সংগ্রহে প্রচুর ভোগান্তি হচ্ছে।
সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের সেচপাম্প, অগভীর নলকুপ, কাটা-মাড়াই যন্ত্র,পরিবহনের পাওয়ার টিলার,স্প্রে মেশিন সহ বিভিন্ন ধরণের কৃষি যন্ত্রের জন্য তেল দরকার। যাচাই করে যকটুকু সম্ভব  বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড.ইয়াসিন আলী বলেন, প্রশাসনের  সাথে সমন্বয় করে  কৃষি ও কৃষকদের বাঁচাতে পুরো জেলায় এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিদের্শণা রয়েছে কৃষকদের তেলের ব্যবস্থা করে দেয়ার।
সদর ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, পাম্পে নির্দেশনা দেয়া আছে কৃষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার। প্রকৃত কোন কৃষকের কার্ড না  থাকব্েযলও তেল যেন পান সেটিও দেখা হচ্ছে।  কৃষকদের  প্রথম বরাদ্দই শেষ কথা নয়, প্রয়োজনে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।


এ জাতীয় আরো খবর