বুধবার, মে ২০, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে লোডশেডিং,ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে মানুষের

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৪-১৬ ২২:৪২:৪৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে  ক্রমাগতভাবে বিদ্যূতের লোডশেডিং বাড়ছে। তীব্র গরমে লোড শেডিং মানুষের  স্বাভাবিক জীবনাযাত্রায় ছন্দপতন ঘটাচ্ছে। গ্রীষ্ঠ যত প্রকট হচ্ছে লোড শেডিংও ততই বাড়ছে। দিনে ও রাতে  সব সময়ই লোড শেডিং হচ্ছে।  হাসপাতালের রোগি ও শিক্ষার্থীরা এ কারণে বেশি কষ্টে পড়েছেন। তবে দিনের বেলা  বিদ্যূৎ যায় কম। রাতেই বেশি। লোড শেডিং নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে।  কৃষকরা চিন্তিত মাঠের ধান ও অন্য ফসল নিয়ে। অনেকে বলছেন  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল ও গ্যাসের উপর চাপ পড়েছে।  আমদানী কমেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমেছে। শহরাঞ্চলে এখন  সর্বোচ্চ ২/৩ ঘন্টা পর্যন্ত এবং পল্লী অঞ্চলে ৩/৪ ঘন্টা পর্যন্ত লোড শেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।  
অন্যদিকে বিদ্যূৎ কর্মকর্তারা বলছেন,মূলত: চাহিদার তুলনায়  জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ কম  পাওয়াই তাঁদের লোড শেডিং করতে হচ্ছে।  এর সাথে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন সম্পর্ক নেই।
জেলার বিদ্যূৎ সূত্রগুলো জানায়, জেলায় বিদ্যূতের গ্রাহক সংখ্যা  ৫ লক্ষাধিক। এর মধ্যে নেসকোর গ্রাহক দেঢ় লক্ষাধিক। পল্লী বিদ্যূতের ৩ লক্ষ ৬০ হাজারের মত। মধ্য এপ্রিলে জেলায় নেসকো ও পল্লী বিদ্যূতের চাহিদা  সর্বোচ্চ ১৬৫ মেগাওয়াট। জেলায় এই দুই প্রতিষ্ঠান কখনও কখনও চাহিদার তুলনায় গড়ে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোড শেডিং করছে। ভবিষ্যতে লোড-শেডের কমবেশি সম্পর্কে কোন আগাম ধারণা দিতে পারেন নি  কেউ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাইমিনুর রহমান বলেন, এখন তাঁর এলাকায় ৩২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেড করতে হচ্ছে। ঢাকার ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টার (এনএলডিসি) মূলত: লোড ম্যানেজমেন্ট করে। সারাদেশের উৎপাদন,সঞ্চালন,সরবরাহ এখন থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, যা সরবরাহ পাওয়া যায় তা  গ্রাহকদের  ভাগ করে দেয়া হয়। কম  বিদ্যূৎ সরবরাহ পেলে বিভিন্ন ফিডারে বিভিন্ন মেয়াদে লোডশেড করা হয়। সাধারণত:  আধাঘন্টা থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত লোডশেড করতে হ্েচ্ছ। বিদ্যুৎ বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহের। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে বেশি লোডশেড করতে হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকো-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই সবসময়ই  যে লোড শেডিং হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। কখনও কখনও দীর্ঘক্ষণ সরবরাহ চালুও থাকে। তবে গত কয়েকদিনে ধীরে ধীরে লোডশেডিং বেড়েছে। কম সরবরাহ পাওয়ার পর ফেজ ভিত্তিক বন্টনের কারণে  যখন বিদ্যূৎ থাকেনা সেটা লোড শেডিং। কিন্তু ঢাকা থেকে  সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হলে সেটিকে লোডশেডিং বলা যায় না।
নেসকো, শিবগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, সম্প্রতি একদিন তাঁরা সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ৭ মেগাওয়াটের তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পেয়েছেন। গত ১৫   এপ্রিলও শিবগঞ্জবাসী দীর্ঘক্ষণ বিদ্যূৎ সমস্যায় ছিলেন।
নেসকো গোমস্তাপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়ালিদ হাসান বলেন,অনেক সময় মেইনটেন্যান্সের কারণে বিদ্যূৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। আবার আবহাওয়ার কারনেও বন্ধ রাখতে হয়ে। অনেক সময় বৃষ্টি হলে বা ঠান্ডা আবহাওয়া হলে বিদ্যূতের চাহিদা কমে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির জিএম হাওলাদার ফজলুর রহমান বলেন, এখন গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত লোড শেডিং করতে হচ্ছে। চলতি মৌসুৃমে ্ সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেড করতে হয়েছে।  হাসপাতাল বা সরকারি জরুরী স্থাপনায় লোড শেডিং কম করা হয় বলেও জানান তিনি। তিনি আশা প্রক্যাশ কওে বলেন, মাঠের ধান উঠেগেলে লোডশেড কমে আসবে। 


এ জাতীয় আরো খবর