মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-২৩ ২২:২৯:৫৮
ছবি: সংগৃহীত।

সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে কোনোভাবেই প্রাধান্য না দিয়ে কেবল যোগ্যতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাবোধ, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য, সততা এবং দায়িত্ব পালনের সামগ্রিক উপযুক্ততাই পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রত্যেক কর্মকর্তার যোগ্যতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দুর্যোগকালে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দেশের প্রয়োজনে দুই বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ঠা ও ত্যাগের জন্য নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানসহ সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পাশাপাশি ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত সকল মানুষের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। বিশেষভাবে নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদসহ সশস্ত্র বাহিনীর সকল বীর সদস্যের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে নবপ্রতিষ্ঠিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন এবং এর বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে তিনি বিমান বাহিনীর আকাশ যুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে বৃহৎ প্রদর্শন পর্দার মাধ্যমে যুদ্ধবিমানের আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে চালকবিহীন উড্ডয়নযানের সরাসরি চিত্রের সহায়তায় হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর তিনি বিমান বাহিনীর মহাকাশ গবেষণা ও উন্নয়ন কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় দেশীয় সক্ষমতায় নির্মিত চালকবিহীন উড্ডয়নযান, আত্মঘাতী উড্ডয়নযান, প্রতিহতকারী উড্ডয়নযান এবং উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণক্ষম উড্ডয়নযান প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি চার পাখাবিশিষ্ট ক্ষুদ্র উড্ডয়নযানের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।
নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা উদ্ভাবনকে দেশের গবেষণা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা এবং বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পদোন্নতি, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী

 


এ জাতীয় আরো খবর