শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

রমনার বটমূলে সূর্যোদয়ের সুরে নববর্ষ বরণ,ছায়ানটের আয়োজনে সংস্কৃতির মহামিলন

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৪-১৪ ০৯:৫৯:৩৮

নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে রাজধানীর রমনা বটমূল-এ বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ছায়ানট-এর আয়োজনে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গান দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানানো হয়।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৬টায় শুরু হওয়া এই প্রভাতী অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে রমনার বটমূল রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। সূর্যের প্রথম আলো ফুটতেই সংগীত, কবিতা আর আবৃত্তির মাধুর্যে ভরে ওঠে পরিবেশ।
উদ্বোধনী সংগীতের পর একে একে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’, ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দক্ষিণ হাতে’ এবং ‘বাজাও আমারে বাজাও’সহ একাধিক কালজয়ী গান। পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও সলিল চৌধুরী-এর সৃষ্টিগুলোও পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। সম্মিলিত ও একক কণ্ঠে মোট ২২টি গান পরিবেশন করা হয়, যার মধ্যে ৮টি দলীয় এবং ১৪টি একক পরিবেশনা। এছাড়াও ছিল আবৃত্তির আয়োজন। প্রায় ২০০ জন শিল্পী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এই আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
এবারের বর্ষবরণের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির। আয়োজকেরা জানান, বিগত বছরের সব প্রতিকূলতা ও নেতিবাচকতা ঝেড়ে ফেলে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই নতুন বছরকে বরণ করা হচ্ছে।
১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় এটি পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হয়।
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক হিসেবে রমনার বটমূলের এই প্রভাতী আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে-বাঙালির হৃদয়ে নববর্ষ মানেই একতার সুর, শেকড়ের টান এবং নতুন দিনের অঙ্গীকার।

কী-ওয়ার্ড: নববর্ষ উদযাপন,রমনা বটমূল,ছায়ানট আয়োজন


এ জাতীয় আরো খবর