বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২৬

ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা,দেশজুড়ে ধর্মীয় আবহ ও কোরবানির ব্যস্ততা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৬-০৫-২৮ ১৯:২৭:৪৯
ছবি: সংগৃহীত।

ধর্মীয় মর্যাদা, ত্যাগের চেতনা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির আবহে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সকাল থেকে দেশের শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নামাজ, মোনাজাত ও কোরবানির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঈদের জামাতে অংশ নিতে মানুষের ঢল নামে। জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম, সংসদ ভবন চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন বড় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। মুসল্লিরা একসঙ্গে নামাজ আদায় শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জামাত শেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্বশান্তি এবং দেশের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও পর্যায়ক্রমে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই সেখানে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। একইভাবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়ও ঈদের জামাতে অংশ নেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মুসল্লিরা। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
খুতবায় ইমামরা কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরে আত্মত্যাগ, সংযম, মানবিকতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করায় ঈদের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের চিত্র ফুটে ওঠে।
নামাজ শেষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় পশু কোরবানির ব্যস্ততা। কোথাও বাড়ির সামনে, কোথাও খোলা মাঠে কিংবা নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতে দেখা যায় মানুষকে। অনেক এলাকায় প্রতিবেশীরা একে অপরকে সহযোগিতা করে কোরবানি সম্পন্ন করেন। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও কোরবানির কাজে অংশ নেন।
ঈদ উপলক্ষে হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন ও কারাগারে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিনসহ পরবর্তী দুই দিন পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করছেন অনেকেই। ফলে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের সব স্তরে।
এদিকে সৌদি আরবে একদিন আগে ঈদ উদযাপনের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতাও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মিনায় অবস্থান করে হাজিরা কোরবানি ও শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। বাংলাদেশের কিছু এলাকাও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঈদ পালন করেছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের জামাত। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত। সেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মুসল্লিরা অংশ নেন। জামাত শেষে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ঈদগাহ এবং দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানেও বিপুল মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা নিয়ে এবারের ঈদুল আজহা উদযাপিত হলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।

 


এ জাতীয় আরো খবর