ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘চূড়ান্ত জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান আমির হাতামি। তিনি বলেছেন, উপযুক্ত সময় ও স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুর পর লারিজানিই ছিলেন ইরানের সবচেয়ে সিনিয়র নেতা। তার নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এক বিবৃতিতে আমির হাতামি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইতোমধ্যেই মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
লারিজানির মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী সাঈদ জালিলি দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি চলমান উত্তেজনার মধ্যে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যায়।
অন্যদিকে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এলাকা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
চলমান এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কী-ওয়ার্ড:ইরান ইসরায়েল উত্তেজনা,লারিজানি নিহত,মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত