ঘুরতে এসে আর ফেরা হলো না ফয়সালের,আহত বন্ধু হাসপাতালে!
মহেশখালী (কক্সবাজার)
মহেশখালীতে টমটম (মিশুক) ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোহাম্মদ ফয়সাল নামে এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু আজিম গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনা এলাকার সমবায় সমিতির সামনে প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফয়সাল ও তার বন্ধু আজিম মোটরসাইকেলে করে মহেশখালীতে ঘুরতে এসেছিলেন। বিকেলে সেখান থেকে ফেরার পথে জাগিরাঘোনা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টমটমের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।।সংঘর্ষের পর মোটরসাইকেলের দুই আরোহী সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ফয়সাল চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল এলাকার মুহাম্মদ ইলিয়াছের ছেলে। তিনি প্রবাসে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় আহত আজিম চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মুহূর্তেই বদলে গেল আনন্দের ভ্রমণ,স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়সাল ও আজিম মোটরসাইকেলে করে মহেশখালীতে ঘুরতে এসেছিলেন। দিনের স্বাভাবিক ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের সেই যাত্রা পরিণত হয় মৃত্যুশোকে। স্বজন ও স্থানীয়দের কাছে ফয়সালের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে প্রবাসে থাকা একজন যুবকের এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক।
আবারও আলোচনায় টমটমের নিরাপত্তা,মহেশখালীর বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত টমটমসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের চলাচলও রয়েছে উল্লেখযোগ্য।ফলে ব্যস্ত সড়কে গতি, ওভারটেকিং, বিপরীতমুখী যানবাহ নের দূরত্ব ও চালকদের সতর্কতার বিষয়গুলো সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর আগেও মহেশখালীতে টমটমকে ঘিরে দুর্ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে মাতারবাড়ীতে ব্যাটারিচালিত টমটমের চাপায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে জাগিরাঘোনার মঙ্গলবারের দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে, টমটম ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের সময় যানবাহন দুটির গতি কত ছিল কিংবা কোনো চালকের অসতর্কতা ছিল কি না এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সড়ক দুর্ঘটনার পর সাধারণত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য,ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে কারণ নির্ধারণ করা হয়। জাগিরাঘোনার এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। এক পরিবারের স্বপ্নের অপমৃত্যু
প্রবাসজীবন শেষে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নিজের এলাকার পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা করার মতো স্বাভাবিক একটি দিনই ফয়সালের জীবনের শেষ দিন হয়ে দাঁড়াল। একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয়নি; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনাতেও নেমে এসেছে অন্ধকার। মহেশখালীর জাগিরাঘোনায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল সড়কে সামান্য অসতর্কতার মূল্য কখনো কখনো একটি পুরো পরিবারের জন্য অপূরণীয় হয়ে উঠতে পারে।