গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে ন্যাটো সদস্যদের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর আহ্বানে আপত্তি জানিয়েছে ন্যাটো মিত্র ও পশ্চিমা কয়েকটি দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, লন্ডন মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে নৌপথটি পুনরায় চালুর জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো ন্যাটো মিশন হবে না।
অন্যদিকে জার্মানির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এই সংঘাত ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। বার্লিনে জার্মান সরকারের মুখপাত্র বলেন, ন্যাটো মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড রক্ষার জন্য একটি প্রতিরক্ষা জোট এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে ন্যাটো মোতায়েনের কোনো ম্যান্ডেট নেই।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি জানান, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে এ অভিযানে পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ নাকচ করে দিয়েছেন। একইভাবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রব্লেস বলেন, মাদ্রিদ কোনোভাবেই সামরিক অবদান রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে না।
ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন অবস্থান আসে এমন সময়, যখন জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে কোনো নৌযান পাঠাবে না।
এর আগে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশকে প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা হলে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে নিরাপদ ট্যাঙ্কার চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্টারমার সাংবাদিকদের বলেন, ব্রিটেন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরিতে কাজ করছে যাতে যত দ্রুত সম্ভব ওই অঞ্চলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো সম্ভব হয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটেন বৃহত্তর কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না।
এদিকে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্তোরিয়ুস জানিয়েছেন, তার দেশ এই যুদ্ধে কোনো সামরিক অংশগ্রহণ করবে না। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমর্থন দেবে জার্মানি।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখালেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, শুরু থেকেই তার দেশ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদরিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার অনুরোধ ন্যাটো দেশগুলো বিবেচনা করতে পারে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপারেশনাল পরিবেশ ও সক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কুস সাখনা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে তার দেশ প্রস্তুত থাকলেও চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা কী, তা আগে স্পষ্টভাবে জানা জরুরি।
কী-ওয়ার্ড:হরমুজ প্রণালী সংকট,ন্যাটো ও ট্রাম্প,মধ্যপ্রাচ্য তেলপথ উত্তেজনা