যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘সহায়তা আসছে, বিক্ষোভ চালিয়ে যান’।
ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান-নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন। খুনী ও নিপীড়কদের নাম মনে রাখুন, তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও জানান, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলন শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও সরকারি কর্মচারীরাও রয়েছেন বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।
এদিকে ট্রাম্পের কড়া অবস্থানের সমালোচনায় সরব হয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাকারোভা বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করলে তা মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
যুক্তরাজ্যও ইরানে চলমান দমননীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। হাউজ অব কমন্সে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো অভিযান গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও রক্তাক্ত দমন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে চীন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত রয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিমান হামলাসহ সব ধরনের সামরিক বিকল্প সিদ্ধান্ত এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্যপতনের জেরে সৃষ্ট জনঅসন্তোষ থেকেই ডিসেম্বরের শেষ দিকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা বর্তমানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বৈধতা সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কী-ওয়ার্ডস:ইরান বিক্ষোভ, ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট