শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

১৮ বছর পর পিতার সমাধিতে তারেক রহমান,আবেগে ভাসল শেরেবাংলা নগর

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-১২-২৭ ০৯:৩৮:৩৭
ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মাজারে পৌঁছে প্রথমে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন তারেক রহমান। কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করেন।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন তারেক রহমান।
এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বাবার কবর জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। লাল-সবুজ রঙে সাজানো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টিত বাসে করে মাজারে যান তারেক রহমান। পথে তিনি বাসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হন। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার হাতে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকের চোখেমুখে আবেগ ও প্রত্যাশার ছাপ স্পষ্ট ছিল।
নেতাকর্মীরা বলেন, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কবর জিয়ারত নয়, বরং বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী মুহূর্ত। শহীদ জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা বেগম খালেদা জিয়া সুদৃঢ় করেছেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই ধারাই নতুনভাবে এগিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশা তাদের।
এদিন দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের হাত ধরেই দেশ আবার গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে অগ্রসর হবে। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন সেই বার্তাই বহন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কবর জিয়ারতকে ঘিরে শেরেবাংলা নগর এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জিয়ার সমাধি ও আশপাশের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়, তবে সার্বিক পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রিত।
কবর জিয়ারত শেষে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন।

 


এ জাতীয় আরো খবর