মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

‘পদ্মা’র পানির নায্য হিস্যা পাওয়া অধিকার,দয়া নয়’-চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-১১-১৫ ১৯:৫০:০৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
বিএনপি  মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,পদ্মা নদীর পানির নায্য হিস্যা পাওয়া  বাংলাদেশের অধিকার, ভারতের  কোন দয়া নয়। ভারত শুধু  উজানের নদীগুলোর পানির নায্য হিস্যা থেকে  বাংলাদেশকে বঞ্চিত নয় বরং বানিজ্য ও সীমান্ত হত্যার মত ঘটনার মাধ্যমেও সংকট সৃষ্টি করছে।  আমরা এসব আর দেখতে চাই না। ১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক লংমার্চের পর ১৯৭৭ সালে শহিদ জিয়া পানির  নায্য হিস্যা আদায়ে কাজ শুরু করেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়াও এটি নিয়ে কাজ করেন। পরে আওযামী সরকার ১৯৯৬ সালে একটি পানিবন্টন চুক্তি করে গ্যারান্টি ক্লজ ছাড়াই। আগামী বছর ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এরপর কি হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
ফকরুল বলেন, আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওই নির্বাচনে শক্তিশালি সরকার গঠন হতে হবে। যারা ভারতের সাথে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবে। পদ্মার পনির নায্য হিস্যা আদায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান পদ্মা বাঁচাও আন্দোলন যতদিন দাবি আদায় না হয় ততদিন চলবে। তারেক জিয়া এ আন্দোলনের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের এই আগ্রাসন মোকাবেলায় ‘গঙ্গা ব্যারেজ’ নির্মাণ করতে হবে। গঙ্গা ব্যারাজে বর্ষা মৌসুমে পানি ধরে রাখা হবে। ওই পানি শুস্ক মৌসুমে কৃষি সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিবে।
 শনিবার(১৫ নভেম্বর) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মঠে ‘পদ্মা নদীর  পানির নায্য হিস্যা দাবিতে সমন্বয় কমিটি’ আয়োজিত গণসমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফকরুল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর-৩ আসনের সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠিত সমাবেশে মহাসচিব জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, রাজনীতিতে  তারা সংকট সৃষ্টি করছে। পিআর পদ্ধতি দাবি করছে। অথচ  পিআর পদ্ধতি কি সম্পর্কে সাধারণ জনগনের  ধারণা নেই। তারা সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে। সরকার গঠন অত সহজ নয়। ৫১ শতাংশ ভোট পেতে হবে। অথচ শেষ নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৫ শতাংশ ভোট। জামায়াত মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থান সেনাবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে গণহত্যা করেছে।
মির্জা ফকরুল বলেন, এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। ধর্মকে ভালবাসে কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। দেশের বানিজ্য সংকটে রয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। নির্বাচিত সরকার ছাড়া এ সংকট কাটবে না। সঠিক সময় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। দেশ তৈরিতে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব নিতে হবে। স্বৈরাচার যেন আার ফিরে না  আসে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। ১৭ নভেম্বর কোন অরাজকতা করতে দেয়া হে ব না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান,কৃষকদের সার,বীজ সরবরাহ,বিচার বিভাগ,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী শাহজাহান মিয়া,চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু,রাজশাহীর প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ সহ নেতৃবৃুন্দ বক্তদব্য দেন।


এ জাতীয় আরো খবর