তোমাকে দেখে জোছনা ঝরেছিল পৃথিবীময়
চাঁদ হাঁটছিল মেঘবালিকার সাথে খোলা হাওয়ায়
পাহাড়ী ললনা সেজেছিল ফুল সাজে,
কলকল হাসিতে ঝরনা ছুটছিল নদী মোহনায়।
রাতজাগা পাখি চেয়েছিল পাতার আড়ালে,
মাধবীলতার থোকায় বসেছিল অলি।
শিউলি নীরবে লুটিয়ে পড়েছিল সবুজ ঘাসে
সোনালি ধানের শীষ ভিজেছিল কার্তিকের কুয়াশায়
অঘ্রান সেজেছিল নবান্নের আমন্ত্রণে ---
কৃষাণীর ঠোঁটে খুশির ঢেউ খেলেছিল তোমাকে দেখে।
ছিন্নভিন্ন কাশের বন, সারসের চোখমুখে আতঙ্কের ছায়া,
শিয়ালের ডাকে কাঁপে বুক, আগলে রাখে ছানাদের।
শান্ত নদীর বুকে উঁকি দেয় সকালের মিষ্টি রোদ,
বাউলের খঞ্জনিতে ঝংকার তোলে তোমার আগমনী বার্তা।
প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে কখন জানি
ঘুমিয়ে পড়েছিল বালিকা বধূ,
হাতে ছিল একগুচ্ছ হলুদ গাঁদা ফুল
তোমার হাতে তুলে দিবে বলে।