ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ে, টগরফুলের পাতায়,
ঠিকরে ঠিকরে উঠছে যেন, খৈ ফুটছে কড়ায় ।
ভয় দেখানো কালো মেঘে, ঢেকে গেছে আকাশ,
বর্ষা বর্ষা বইছে হাওয়া, আনন্দেরই প্রকাশ ।
লাগলো দোলা কলাপাতায়, নারকেল গাছের আগায়,
ভিজে ভিজে কাজের মজা, গান এসে যায় গলায়।
বিদ্যুতের ঐ তারে দেখি, ভিজে কাকের সারি,
সজনেগাছের ডালের তলায়, শালিকের পায়চারি ।
আঁধার হয়ে এলো পাড়া, জ্বালতে হলো আলো,
হোক বরিষণ, ভিজুক মাটি, কৃষির পক্ষে ভালো ।
ফলবে ফসল, মাঠে মাঠে, হাসবে চাষীর মুখ,
এসো মা লক্ষী বসো ধরণীতে, দুর হোক সব দুখ ।
বর্ষা তুমি সবুজ পরী, মেঘলা শাড়ী পরো,
আকাশ থেকে নেমে এসে, হাতটা টেনে ধরো ।
শুধাও আমায় আয়রে সখা, মেঘের সাথে খেলবি,
মেঘে তড়িৎ কেমন চমকায়, নিজের চোখে দেখবি ।
মেঘ বালক আর মেঘ বালিকা , কেমন ঝগড়া করে,
কিভাবে ওঠে গুড়ুগুড়ু ডাক, শিল কিভাবে পড়ে ।
আমি হলাম বর্ষারাণী, ছায়ায় মায়ায় ভরা,
রূপে আমার বিদ্যুৎ চমকায়, ভুলে যাবি ধরা।
আমার ভিতর দুঃখ আছে, আছে সুখের ডালা,
একটু শুধু কষ্ট করে, খুঁজলেই মিলনমালা ।
আমি যাকে ভিজিয়ে দিই, আমিই আবার শুকাই,
আমি, সুখের মাসী দুখের পিসি, দুজনকেই আমি জাগাই।
কারোর কাছে শত্রু আমি, কারোর পরম বন্ধু,
আমি নিষ্ঠুর কারোর কাছে, কারোর করুণাসিন্ধু ।