সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬

না স রী ন জা মা ন

  • নীল দংশন
  • ২০২৫-০৮-১৪ ১১:৫৫:১৮

আহারে! সেই সন্তানরা যে ফিরলো না আর ঘরে।
আবার নতুন ভোরের পরে ফিরে এলো নতুন সকাল, 
ফিরে এলো নতুন সূর্য, নতুন রোদের ঝিলিক, 
চেনা পাখিদের গানের মুখরিত চারধার।
ওরা তো ফিরলো না, ফিরবে না কোনোদিনও আর। 

ওরা বুক পেতে দিয়ে বুকে বেঁধে নিয়ে চলে গেল
এক দেশ এক জাতি আর এক ভাষাভাষীদের
বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার পুরস্কার।
ওরা তাই চুপিচুপিও ফিরবে না কোনোদিনও আর।

কি দোষ ছিলো? কতবড় অপরাধ ছিলো ওদের?
নাহয় প্রতিবাদ করেছিলো বৈষম্যনীতির,
আওয়াজ তুলেছিলো একটা ন্যায্য দাবী আদায়ের,
রাজপথে এসেছিল মায়ের স্নেহের আঁচল ছেড়ে। 

ওরা তো ছিলো না স্বৈরাচার, রাজাকার, কিংবা
গনতান্ত্রিক অধিকার হরণে ক্ষমতার বেদখলদার,

ওরা তো ছিলো না একাত্তর কিংবা পঁচাত্তরে
স্বাধীনতা বিরোধীর ঔরসজাত জারজ সন্তান, 
ওরা তো ছিলো না কোনো কুটনৈতিক কুচক্রী মহলের
হুকুম পালনের কোনো তাঁবেদারি গোলাম। 
তবে কেন? তবে কেন?? তবে কেন???
নির্মমতার প্রতিটি আঘাতের চিহ্ন বুকে নিয়ে
ঝরে গেলো অতগুলো সদ্য বিকশিত  তাজা প্রাণ?

জানি, এ প্রশ্নের জবাব দেবে না কোনো বিচারমহল,
এ কান্না থামবে না কখনও আর
বিবেক জাগ্রত জাতির ভেজা চোখ থেকে। 
আমি তাই কোনো হন্তার কাছে বলবো না বিচার চাই, 
আমি শুধুই বলতে চাই, কাঁদো জাতি কাঁদো।
সবুজ মানচিত্রের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, আর
বায়ান্ন থেকে দুহাজার চব্বিশে হেঁটে এসে অবশেষে —
কালো রাজপথ রঞ্জিত করা
লাল রক্তের এই কলঙ্কিত ইতিহাস হয়ে কাঁদো,
নারকীয় হত্যাযজ্ঞের দৃশ্যপট বুকে চেপে কাঁদো। 

জানি না, কবে কে কখন বলেছিলো কোথায়
"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"
আমার সেই সন্তান যে আজ ঘুমায় রক্তের বিছানায়, 
আমার সেই সন্তান যে আজ ঘুমায় বুলেটের বারুদের গন্ধে বন্ধ শ্বাসযন্ত্রের কাতর যন্ত্রনায়,
আমার সন্তান যে আজ ঘুমায়
কালো কেউটের নীল দংশনের নীল চেহারায়। 
এ চোখে যে আজ তাই অবিরাম অশ্রুই ঝরে যায়।


এ জাতীয় আরো খবর