সিরিজ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পকেটে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত। তবে আজকের ম্যাচটি ছিল মর্যাদা ও প্রতিশোধের লড়াই। একদিকে পাকিস্তানের জন্য সম্মান রক্ষার শেষ সুযোগ, অন্যদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য—ধবলধোলাই করে শক্তিমত্তার বার্তা দেওয়া।
এই প্রেক্ষাপটেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে ১৭৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় সফরকারীরা।
দলের হয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। ফখর জামানের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া এই ২৯ বছর বয়সী ব্যাটার ৬৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন মাত্র ৩৪ বলে, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কার মার। বাংলাদেশের বিপক্ষে জুনে করা ১ রানের হতাশার পর এবার যেন নিজেকে প্রমাণের দিন ছিল ফারহানের জন্য।
তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন সাইম আইয়ুব। যদিও তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২১ রান, তবে দুজনে মিলে গড়েন ৮২ রানের উদ্বোধনী জুটি—যা এ সিরিজে পাকিস্তানের প্রথম সফল ওপেনিং পার্টনারশিপ।
বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ, ফিরিয়ে দেন সাইম আইয়ুবকে। পরবর্তীতে ফারহানকেও নিজের শিকার বানিয়ে পাকিস্তানের রানের গতি কিছুটা কমিয়ে আনেন। নাসুমের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিল নজরকাড়া।
তবে শেষদিকে পাকিস্তানের দুই অলরাউন্ডার হাসান নওয়াজ ও মোহাম্মদ নওয়াজ ঝড় তোলেন। হাসান খেলেন ১৭ বলে ৩৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস এবং মোহাম্মদ নওয়াজ করেন ১৬ বলে ২৭ রান। তাদের দুজনের ছোট ছোট ইনিংসই শেষ দিকে পাকিস্তানকে পৌঁছে দেয় সম্মানজনক স্কোরে।
শেষ ওভারে চমৎকারভাবে কামব্যাক করেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। ওই ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি উইকেট। পুরো ইনিংসে তাসকিন ৪ ওভারে ৩৮ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।
টি-টোয়েন্টিতে এই মাঠে ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করাটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর এবং ব্যাটিং লাইনআপ ফর্মে। লিটন দাস, শান্ত, সাকিব ও তাওহীদ হৃদয়ের মতো ব্যাটাররা শুরুটা ভালো করতে পারলে, আজই হতে পারে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম হোয়াইটওয়াশের সাক্ষী হওয়ার দিন।
কিওয়ার্ডস:বাংলাদেশ_পাকিস্তান_টি২০,শাহিবজাদা_ফারহান,তাসকিন_আহমেদ_উইকেট,বাংলাদেশ_ধবলধোলাই,BANvsPAK_T20_2025