রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬

দেশচিন্তাঃ গণজাগরণ,কূটনৈতিক বার্তা ও দুর্নীতিবিরোধী আওয়াজের সপ্তাহ

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৫-০৭-১৯ ২১:৩০:০৫

বিগত এক সপ্তাহে (১৩–১৯ জুলাই ২০২৫) বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চ,কূটনৈতিক অঙ্গন এবং নাগরিক সমাজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। কোথাও স্পষ্ট হয়েছে একটি নতুন রাজনৈতিক চেতনার উত্থান, আবার কোথাও উঁকি দিয়েছে পুরনো সংস্কারকে ভাঙার চেষ্টা। চলুন, বিশ্লেষণ করি সপ্তাহটি আমাদের জাতির জন্য কী বার্তা রেখে গেল।
১.
দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন,সংকট নিরসনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন এখন সময়ের দাবি, এবং এই দায়িত্ব বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তথা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কাঁধে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সংস্কার আমরাই করেছি, প্রস্তাবও আমরাই দিয়েছি। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করুন এবং দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা এখন এক মোক্ষম সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। যদি এবারও পিছিয়ে পড়ি, তাহলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। প্রতিবার ছাত্ররা জীবন দেবে, আন্দোলন হবে-এটা তো চলতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো প্রমাণ করেছে তারা দেশপ্রেমিক। তারা গণতন্ত্রের জন্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে রক্ত দিয়েছে,ত্যাগ স্বীকার করেছে।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের বিপ্লব করে ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা বা সামর্থ্য নেই। আমরা চাই জনগণের সঙ্গে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। তাই প্রয়োজন এমন একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো, যেটি সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।”
তিনি যোগ করেন, “সরকারের প্রতিটি স্তরে যারা আছেন, তারা যেন এমন একটি সমাধানের রূপরেখা দেন, যেখানে কেউ আর ফ্যাসিবাদের ছায়াতলে দেশকে ঠেলে না দেয়।”
ফখরুল আরও বলেন, “আমাদের আন্দোলনের মূল কথা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা। সেখানে কোনো আপস নয়। গণতন্ত্রই একমাত্র পথ এবং আমরা সেই পথেই হাঁটছি।”
এদিকে, শনিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশটি সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনা। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আবার একটি লড়াই হবে-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে।”
যদিও এই বক্তব্য রাজনৈতিক প্রচারণার কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে,তবুও এটি জাতীয় রাজনীতিতে দুর্নীতিবিরোধী বয়ানকে কেন্দ্রীয় করবার একটা চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে মঞ্চেই অসুস্থ হয়ে পড়া ডা. শফিকুর রহমানের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে-কারও কাছে এটি করুণার, আবার কারও কাছে রাজনৈতিক দুর্বলতার প্রতীক।’ বিএনপিকে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানালেও অসুস্থ হয়ে পড়া ডা. শফিকুর রহমানকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে,চট্টগ্রামে এক আলোচনায় বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বার্তা দিয়েছেন-জামায়াতে ইসলামীর উচিত দলীয় নাম পরিবর্তন করে নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করা।
এ বক্তব্য জামায়াতের জন্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একটি নতুন ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির ইঙ্গিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি গণমুখী গঠনতন্ত্র।” বর্তমানের বিভক্ত ও দ্বিধান্বিত রাজনৈতিক পরিসরে এমন একটি বক্তব্য গভীর অর্থ বহন করে।
১৬–১৭ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-র গোপালগঞ্জে পদযাত্রা ও সমাবেশেকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় জনসাধারণের সাথে সংঘর্ষ বাধে,যা গত সপ্তাহের টক অব দি কান্ট্রি ছিল।এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের গাড়িতে করে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় এনসিপি।  নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক বিরোধে ৪–৫ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। এঘটনায় জেলা জুড়ে কারফিউ জারি ও ২০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। 
২ 
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গত সপ্তাহ ছিল তুমুল আলোচনায়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।তেহরানে বিচার বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‌ইরান শুধু প্রস্তুতই নয়, বরং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ‘আরও বড় প্রতিশোধ’ নিতে সক্ষম।
সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সীমিত যুদ্ধের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই খামেনি জানান, “আমাদের জাতি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার শিকলবন্দী কুকুর ইহুদিবাদী শাসনের (ইসরায়েল) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। এটাই আমাদের সাহসের প্রমাণ।”
খামেনি সরাসরি উল্লেখ করেন, কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল একটি সুস্পষ্ট বার্তা। “আক্রান্ত ঘাঁটিটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর মার্কিন ঘাঁটি ছিল। এটা ছিল সতর্কবার্তা-যদি প্রয়োজন পড়ে, আরও বড় আঘাত দিতে আমাদের কোনো দ্বিধা থাকবে না।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের তিনটি দেশ (ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন) আগামী আগস্টের মধ্যে পরমাণু চুক্তিতে ইরানকে রাজি করাতে চাপ প্রয়োগ করছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অগ্রগতি না হলে জাতিসংঘের ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতি অনুযায়ী ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।খামেনি পাল্টা জবাবে বলেন, “কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান দুর্বল পক্ষ নয়। আমাদের যুক্তি, শক্তি ও কৌশল—সবই প্রস্তুত। আমরা চুক্তির টেবিলেও শক্ত অবস্থানে থাকবো, আবার প্রয়োজনে যুদ্ধক্ষেত্রেও।”
এদিকে,ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ভিসা আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলেছে, মিথ্যা তথ্য বা ভুয়া কাগজপত্র দিলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, আজীবন ভিসা নিষেধাজ্ঞাও হতে পারে।
এই ঘোষণাটি শুধু অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য নয়, এটি প্রতারণা, তথ্য গোপন এবং ডিজিটাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে-DS-160 ফর্মে গত ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট লুকানোও ‘গুরুতর অপরাধ’। এর মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে একটা কথা পরিষ্কার-স্বচ্ছতা ও সততার বিশ্বমানদণ্ডে বাংলাদেশকেও মানতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নজিরবিহীন এক পরিবর্তন এসেছে।বিশ্বজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় বিশ্বের সব মার্কিন কূটনীতিকদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক সরে আসা। এতদিন ধরে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছিল ওয়াশিংটন। এবার সেই ঐতিহ্যবাহী অবস্থান বদলে যাচ্ছে।
রয়টার্স-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই বার্তায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো দেশের নির্বাচনের ফলাফলের পর যুক্তরাষ্ট্র কেবল বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাবে। সেখানে আর নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা বা বৈধতা নিয়ে মন্তব্য থাকবে না।
এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে: “যদি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সুস্পষ্ট ও জোরালো স্বার্থ জড়িত না থাকে, তবে নির্বাচন সম্পর্কিত কোনো মন্তব্য না করাই শ্রেয়। আর যদি প্রয়োজন হয়, বার্তা হবে সংক্ষিপ্ত এবং নিরপেক্ষ।”
এদিকে,বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিরা বর্তমানে ভারত সরকারের “রক্ষায়” কলকাতায় অবস্থান করছেন-এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে ভারতের কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি কি কোনো বাধা দিয়েছি? দিইনি। কারণ রাজনৈতিক বিষয় আছে। ভারত সরকার তাদের অতিথি হিসেবে রেখেছে।”
নিউটাউনের এক সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্তা’ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশ বিপদে পড়েছে-এমনটাই যদি হয়, তাহলে ভারত সরকার কেন বাংলাদেশি নেতাদের অতিথি হিসেবে রাখছে? আমি কোনোদিন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলি নাই।”
পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলা হচ্ছে, এমনকি রোহিঙ্গা পর্যন্ত বলা হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। যারা এটা বলছে, তারা জানে না বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা বিশ্বে পঞ্চম, আর এশিয়ায় দ্বিতীয়।”মমতার অভিযোগ, “ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হচ্ছে, বাংলায় কথা বললেই রিপোর্ট করুন। এসব বর্ণবাদী আচরণ চলছে কেন্দ্রীয় মদদে। অথচ যারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তাদের তো আপনারাই অতিথি করে রেখেছেন।”
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রধান বিরোধী নেতা ইমরান খানকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আড়ালে, ‘ডেথ সেল’-এ বন্দি রেখে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির দাবি, তাকে ন্যূনতম মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত রাখা হচ্ছে-যা সরাসরি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন।
৩
গত কয়েকদিনে রাজনীতিক বক্তৃতা, বুদ্ধিবৃত্তিক মতামত ও কূটনৈতিক বার্তায় ‘দুর্নীতি’ একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
কিন্তু বাস্তবে কি এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ বা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে? এখানেই প্রশ্ন।
একদিকে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি,অন্যদিকে টেন্ডারবাজি,ব্যাংক লুট, এবং প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়নের বাস্তবতা; এ যেন এক দ্বিচারিতা।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরে এখন সাধারণ মানুষের চোখ পণ্যমূল্য ও জীবনযাত্রার মানে। সপ্তাহজুড়ে বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও, এলপিজি, পরিবহন ও কৃষিপণ্য খাতে চাপ বাড়ছে।
সরকার বলছে-‘নগদ সহায়তা বাড়ানো হয়েছে’, কিন্তু বাস্তবে সামাজিক সুরক্ষা বণ্টনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ।
এ সপ্তাহে কৃষক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, “স্মার্ট বাজেট” শুধু শব্দে স্মার্ট, বাস্তবে নয়।
অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। যদিও এখনও দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট নয়, তবে গণমাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তাব ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পাচ্ছে।
দেশে রাজনৈতিক সংলাপের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা তৈরি করতে হলে এই কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জামায়াত বা অন্যান্য দলের তরুণদের নিয়ে আলাদা আলাপ শুরু হয়েছে। ‘তারুণ্য-নির্ভর দল গঠনের’ বিভিন্ন কথাবার্তা জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে ঘুরছে।
এই সপ্তাহে নতুন কয়েকটি যুবমুখী সামাজিক সংগঠনের জন্ম নিয়েছে, যাদের মুখে “দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র”, “নৈতিক নেতৃত্ব”-এমন শব্দ। যদিও তারা সংগঠিত নয়, তবে এটি জনমানসে বিকল্প রাজনীতির স্পৃহা প্রকাশ করে।
এই সপ্তাহে দেখা গেছে-‘কে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেশি’, ‘কে গণতন্ত্রে প্রতিশ্রুতিশীল’, ‘কে ইতিহাসের সঠিক উত্তরাধিকার’-এই প্রতিযোগিতা চলছে মূলত ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার লড়াই হিসেবে।
কিন্তু জনগণ এখন কাজ চায়, কেবল কথা নয়।

লেখকঃ কলামিস্ট,সোস্যাল এক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 

 


এ জাতীয় আরো খবর