যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার শুধু অবৈধ নয়, বৈধভাবে অবস্থানরত বহু অভিবাসীও পড়েছেন এই কঠোর ‘বহিষ্কার অভিযান’-এর আওতায়। সম্প্রতি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসন-দমন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে ট্রাম্প প্রশাসন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রাম্প এবার নজর দিয়েছেন “টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস” (TPS) প্রাপ্ত ১২ লাখ অভিবাসীর দিকে, যাঁরা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো-বিশেষত বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনের আমলে-এসব মানুষদের মানবিক বিবেচনায় অস্থায়ী সুরক্ষা দিয়ে বসবাস ও কাজের অনুমতি দিয়েছিল।
তবে নতুন পরিস্থিতিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সচিব ক্রিস্টি নোম সম্প্রতি TPS প্রাপ্ত প্রায় ৭ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলছে হাইতি, ভেনেজুয়েলা ও আফগানিস্তানের নাগরিকদের ওপর। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন:
৩ লাখ ৪৮ হাজার হাইতিয়ান,
৩ লাখ ৪৮ হাজার ভেনেজুয়েলান,
এবং ১১ হাজার ৭০০ আফগান নাগরিক।
এসব মানুষ মূলত দমনপীড়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
টিপিএস পাওয়া এক হাইতিয়ান বলেন, “আমি কোনোদিন অবৈধভাবে এখানে আসিনি। যদি আমাকে হাইতিতে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে শুধু প্রার্থনা করব, যেন গুলি খেয়ে মরতে না হয়।”
এই দমনে শুধু হাইতি ও ভেনেজুয়েলা নয়, হন্ডুরাসের ৫২ হাজার এবং নিকারাগুয়ার ৩ হাজার অভিবাসীও আক্রান্ত হচ্ছেন। এরা ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএস সুবিধার আওতায় বসবাস করে আসছেন।
হন্ডুরাস দূতাবাসের উপপ্রধান লিওনার্দো ভালেনজুয়েলা নেদা বলেন, “আমরা এখনই এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত নই।”
এছাড়া, বাইডেন প্রশাসনের সময় দেয়া মানবিক 'পারোল' সুবিধা পাওয়া শত-সহস্র অভিবাসীকেও টার্গেটে নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই পারোল সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন এইসব মামলার শুনানিই বাতিল করছে অভিবাসন আদালতগুলো।
আটককৃতদের শুনানি ছাড়াই বহিষ্কারের পথে পাঠানো হচ্ছে। আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কর্মকর্তারা এখন এসব অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই পদক্ষেপকে আখ্যা দিচ্ছেন 'রিমুভালপালুজা' বা 'বহিষ্কার-উৎসব'।
৮ জুলাই আইসিই-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স এক স্মারকে নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে যেসব অভিবাসী অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের পুরো বিচারকালীন সময় আটক রাখা যাবে। এই বিচার কার্যক্রম মাস নয়, বছরের পর বছর চলতে পারে। ফলে লাখ লাখ অভিবাসী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি থাকবেন।
সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস অভিবাসন দমন কার্যক্রমে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট পাস করেছে। এর মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার, আটকে রাখা এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, “টিপিএস কোনোদিনই স্থায়ী নাগরিকত্বের পথ ছিল না। বাইডেন প্রশাসন এই প্রোগ্রামগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করেছে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল এখন স্পষ্ট। অভিবাসন নীতিতে একটি “নতুন যুগের সূচনা” করতে চাইছেন তিনি, যেখানে বৈধ বা অবৈধ -সব অভিবাসীই টার্গেট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর অবস্থান নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও “জাতীয়তাবাদী” ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করতে একটি কৌশলগত দান।
কিওয়ার্ডস: যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন বহিষ্কার অভিযান,ডোনাল্ড ট্রাম্প টিপিএস বাতিল,হাইতি ভেনেজুয়েলা অভিবাসী সংকট,আইসিই অভিবাসন নীতি,ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন