বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

রিক্সা চালিয়ে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া মেধাবী রোমানকে জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-০৭-১৬ ০০:১৭:৫৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত ভোলাহাট উপজেলার দরিদ্র দুই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী রোমান আলী ও  নিয়ামত আলীকে পড়াশোনা চালিয়ে যাবার জন্য আর্থিক সাহায্য করেছেন জেলা প্রশাসক মো.আব্দুস সামাদ। মঙ্গলবার(১৫জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামানের কার্যালয়ে তিনি ওই দু’জনকে  ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন।
রিক্সা  চালিয়ে  চলতি বছর এসএসসিতে গোল্ডেন পাওয়া রোমান জানান, ছোট থেকে  সংগ্রাম করেই বড় হয়েছি। এখন কষ্ট করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মত মানুষ হতে চাই। ভাল কোন সরকারি কলেজে ভর্তি হতে চাই। দরকার হলে পড়াশোনা চালিয়ে যাবার জন্য পড়ার সাথে সাথে কাজ করব। পারলে সে আয় থেকে  পরিবারকেও কিছু সাহায্য করব। কোন কাজই ছোট নয়। তবে পড়াশোনার খরচের কথা ভেবে ভয় পাচ্ছি।  তবে  দরিদ্র  বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে আমি বাইরে কোথাও ভর্তি হতে চাই না। প্রয়োজনে ভোলাহাটেই ভর্তি হব।
রোামানের বাবা  ভোলাহাট সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা  প্রায় পঙ্গু তোফাজ্জল হক (৪৩) বলেন, রোমান চলতি বছর ভোালাহাটের বজরাটেক সবজা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরিক্ষায় সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন জিপিএ)  অর্জন করেছে। সে রিক্সা চালিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছে। এখন রোমনের  উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে পরিবারে চলছে অনিশ্চয়তা। স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষকরা রোমানকে অনেক সাহায্য করেছেন। অনেক ছাড় দিয়েছেন। প্রাইভেট শিক্ষকও সাহায্য করেছেন। তার খরচ অনেক কম লেগেছে।
তোফজ্জল বলেন,রোমান তাঁদের একমাত্র সন্তান।  রোমানের যখন চার বছর বয়সে তখন তিনি গাছ থেকে পড়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেয়ে এখন প্রায় শয্যাশায়ী। পরে  তাঁর একটি কিডনিও বিকল হয়ে যায়। তাঁর নিজেরই ওষুধের খরচ অনকে। তবু তিনি সেলাই মেশিন চালিয়ে কিছু আয় করার চেষ্টা করেন। সরকার থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পান। ১৫টাকা কেজি চালের মাসিক রেশন পান।
রোমানের মা রুনা বেগম বলেন, তিনি মানুষের  পুষতে দেয়া গরু-ছাগল পালন করেন। রোমানের ফলাফলে তাঁর পরিবারের সবাই খুব খুশী। ছেলে যেন আসমানের চাঁদ। রোমানের বড় চাচা তোফজ্জল হক রোমানের ভাল কলেজে ভর্তি এবং লেখাপড়ার খরচের জন্য অনেক চেষ্টা করছেন। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ছেলেটাকে যেন ভাল  কলেজে পড়াতে পারি।
এদিকে গত বছর এইচএসসি উত্তীর্ণ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে ভোলাহাটের দলদলি ইউনিয়নের মুশরীভূজা গ্রামের নিয়ামত আলী ভর্তি পরিক্ষায় তৃতীয় হয়ে জাহঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তাঁকেও সহায়তা করেন জেলা প্রশাসক। তবে এর মধ্যে নিয়ামত আলীর পক্ষাঘাতগ্রস্থ পিতা গত ১৩ জুলাই হঠাৎ মারা গেছেন। পরিবারটি আরও দূর্ভোগে পড়েছে।
ইউএনও মনিরুজ্জমান বলেন, এই দুই অদম্য মেধাবীর কথা জানতে পেরে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তহবিল থেকে দুই অদম্য মেধাবীকে সাহায্য করা হয়েছে। চেস্টা করা হচ্ছে  তাঁদের জন্য জেলা পরিষদ থেকে মাসিক আর্থিক সাহায্যের জন্য।  এ দু’জনের বিষয় জেলা প্রশাসকের নজরে আনা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে এককালীন সাহায্যের চেস্টা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই দু’জনের প্রতি প্রশাসনের নজর থাকবে। ইতিমধ্যে সরকারি বিভিন্ন ভাতা ও সবিধের আওতায় তাদের পরিবারগুলো আনা হয়েছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। 


এ জাতীয় আরো খবর