প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে রিয়াল মাদ্রিদের রাজকীয় সাদা জার্সিতে ক্লাব বিশ্বকাপে অভিষেক হলো কিলিয়ান এমবাপ্পের।
তবে মঞ্চটা যতটা গর্জনময় হওয়া উচিত ছিল, অভিষেকটা ততটা ঝলমলে হলো না।
তবু ইতিহাস তো লিখেই ফেলা হলো-সাদা জার্সিতে মাঠে প্রথম পা রাখলেন বিশ্বজয়ী ফরোয়ার্ড।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জুভেন্টাসকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ।
এমবাপ্পের আগমনের আগেই আলো কাড়লেন এক ঘরোয়া প্রতিভা।
রিয়ালের একাডেমি থেকে উঠে আসা গনসালো গার্সিয়া দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের পাস থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল-নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন ধারাবাহিকভাবে।
অসুস্থতার কারণে গ্রুপ পর্বে ছিলেন দর্শকসারিতে। শেষ ষোলোয় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন এমবাপ্পে। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ উঠলেও মাঠে তাকে দেখা যায় কিছুটা স্তিমিত। বল পেয়েছেন খুব কম, আর যেটুকু পেয়েছেন-সেটাও কাজে লাগানোর মতো স্পেস বা সমন্বয় ছিল না।
তবে এটুকু নিশ্চিত, প্রথম ম্যাচে গোল না পেলেও দলীয় সাফল্য তাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
রিয়ালের পক্ষে গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, যদি না জুভেন্টাসের গোলরক্ষক মিচেল ডি গ্রেগরিও সামনে না দাঁড়াতেন।
বেলিংহাম, ভালভের্দে, আর শেষ সময়ে ভালভের্দের বাইসাইকেল কিক-সবই ভেসে যায় এই ইতালিয়ান দেয়ালে।
রিয়াল মরিয়া হলেও গ্রেগরিও একাই ম্যাচের সেরা পারফর্মারদের একজন হয়ে ওঠেন।
ম্যাচের প্রথম ভাগে কিছুটা এগিয়ে ছিল জুভেন্টাস।
কেনান ইলদিজ এবং কোলো মুয়ানি বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেন। একটি শট কোর্তোয়ার ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়, আরেকটি সেভ হয় চতুরভাবে।
কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জাবি আলোনসোর রিয়াল খুঁজে পায় নিজের গতি ও ছন্দ।
এই জয়ের মাধ্যমে রিয়াল জায়গা করে নিল ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও মন্টেরের মধ্যকার ম্যাচে।
ফুটবলবিশ্বের চোখ এখন সেদিকেই।
সংক্ষেপে:
ফলাফল: রিয়াল মাদ্রিদ ১–০ জুভেন্টাস
গোলদাতা: গনসালো গার্সিয়া (৫৪’)
ম্যাচসেরা: মিচেল ডি গ্রেগরিও (জুভেন্টাস গোলরক্ষক)
এমবাপ্পে: রিয়াল ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ, গোলবঞ্চিত, অনুজ্জ্বল কিন্তু ঐতিহাসিক।
এমবাপ্পের শুরুটা হয়তো সেভাবে রঙিন হলো না, তবে একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো।
রিয়াল ভক্তরা জানেন, রূপকথা শুরু হতে সময় লাগে, কিন্তু একবার ছুটলে তাকে থামানো কঠিন।
এখন অপেক্ষা-কবে সাদা জার্সিতে প্রথমবার বল জালে পাঠান এই ফরাসি রাজপুত্র।