শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও তীব্র: যুদ্ধ দীর্ঘ হলে কে কতটা সহ্য করবে?

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-২০ ১৫:০৭:১৯
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-২০ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান হামলা-পাল্টা হামলা আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ১৩ জুন ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল যে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়, তা থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। তারপর থেকে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই-বরং এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা এখন আরও জোরালো হয়েছে।
আল জাজিরার সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসরায়েল এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে, দেশটির সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাজনীতিকরা নিজেদের ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ তুলে ধরতে চাইছে-বিশেষ করে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে। আরেকদিকে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের খরচ ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে দেশটির ভেতরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
তেল আবিব ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় আল জাজিরার রিপোর্ট তৈরি হয়েছে জর্ডান সীমান্ত থেকে। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের বিমানবাহিনী চৌকস ও অভিযানে পারদর্শী, যারা প্রায় অনায়াসে ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের শঙ্কা-যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে, তবে এই যুদ্ধ লম্বা হতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আকারে-ইঙ্গিতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন-এটি এক সপ্তাহ নয়, হয়তো মাসব্যাপীও চলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্য কেবল উদ্বেগজনক নয়, এতে সংঘাতের দীর্ঘায়নের বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কারণ যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, এর খরচ ও কূটনৈতিক চাপ তত বাড়ে।
সম্প্রতি তেল আবিবের বিভিন্ন সড়কে শোভা পাচ্ছে বিশাল বিলবোর্ড, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা-"Mr. President, Finish The Job"। এই বিলবোর্ড শুধু ইসরায়েল সরকারের নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও যুদ্ধের দ্রুত নিষ্পত্তি চাওয়ার এক ইঙ্গিত বহন করছে।
তবে এটি একইসঙ্গে ইঙ্গিত করছে-ইসরায়েল হয়তো এককভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাচ্ছে না, বরং তাদের প্রত্যাশা-যুক্তরাষ্ট্র আরও সরাসরি হস্তক্ষেপ করুক।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই যুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি ইরানে সামরিক হামলা চালাব কি না, তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেব।”
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের এই "দুই সপ্তাহ" টাইমলাইন অনেকটা রাজনৈতিক কৌশল। তিনি আগেও বিভিন্ন বিষয়ে এমন সময়সীমা ঘোষণা করেছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন করেননি।
আল জাজিরার বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা মনে করেন, “ট্রাম্প এই সময়সীমা ব্যবহার করছেন যেন মূল পরিকল্পনা আড়াল থাকে। এমনও হতে পারে, তিনি আগামীকালই হামলা চালিয়ে দেবেন, আবার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতেও পারেন।”
এই মুহূর্তে ইরান ও ইসরায়েল কেউই সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার মতো অবস্থায় নেই। উভয় দেশই বলছে, আত্মরক্ষার অধিকার তাদের আছে এবং প্রয়োজনে আরও বড় আঘাত হানতে তারা প্রস্তুত।
তবে প্রশ্ন হলো-এই সংঘাত কতটা বিস্তৃত হবে? যুক্তরাষ্ট্র কি শুধু ‘শোনার ভান’ করবে, নাকি সরাসরি যুক্ত হবে? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এমন জটিল বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবেশ করেছে।

সংবাদ সংক্ষেপ:
১৩ জুন: ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়
ইরান: পাল্টা প্রতিশোধ অব্যাহত এবং আলোচনায় অনিচ্ছা
ইসরায়েল: আত্মবিশ্বাসী সেনাবাহিনী, কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধের শঙ্কায় বিভক্ত সমাজ
 যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন

বিশ্ব: সংঘাতে পরাশক্তির জড়ানোর আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে

এই যুদ্ধ কেবল ইরান-ইসরায়েল সীমাবদ্ধ নয়-এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করতে পারে। একদিকে মার্কিন নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অবস্থানও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


এ জাতীয় আরো খবর