শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

যোরহাটে বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত,তদন্ত শুরু

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-১৩ ১৩:৪০:৪৫
ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের আসাম রাজ্যের যোরহাটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। শনিবার সকালে অবতরণের সময় বিমানটি যোরহাট বিমানঘাঁটির অভ্যন্তরে বিধ্বস্ত হলে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটিকে ঘিরে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বিমানটি ঘাঁটির ভেতরে বিধ্বস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার কারণও এখনো স্পষ্ট নয়। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma বলেন, যোরহাটে বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকার কথা জানান।
এএন-৩২ দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সোভিয়েত যুগে ভারতের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি এই দ্বৈত ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমান দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলে রসদ সরবরাহ, সেনা পরিবহন এবং বিশেষ সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একসঙ্গে প্রায় সাড়ে সাত টন মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাট্রুপার বহনের সক্ষমতা রয়েছে বিমানটির।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে আসামের কারবি আংলং এলাকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি Sukhoi Su-30MKI যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হন। ওই ঘটনাও দেশটির সামরিক উড়োজাহাজ পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
সর্বশেষ যোরহাট দুর্ঘটনার পর আবারও বিমানবাহিনীর বহরে থাকা পুরোনো পরিবহন উড়োজাহাজের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা সামনে এসেছে।

কী-শব্দ: আসাম,বিমান দুর্ঘটনা,ভারতীয় বিমানবাহিনী


এ জাতীয় আরো খবর