নওগাঁ | ১৯ জুন ২০২৫,
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তুষ বোঝাই ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের চকবনমালী ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের একজন হলেন বদলগাছী সদর ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের কার্তিক মহন্ত (৫২), যিনি পেশায় প্রেস ব্যবসায়ী। নিহত অপরজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটি ঘটে যখন গোবরচাঁপা অভিমুখে তুষ বহনকারী একটি ভটভটি ও জয়পুরহাটগামী একটি সিএনজি অটোরিকশা চকবনমালী স্কুল পার হওয়ার পর সড়কের মাঝামাঝি অংশে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে, ভটভটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায় এবং সিএনজির সামনের অংশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সিএনজি চালক বিপ্লব হোসেন, ভটভটি চালক এমরান আলী (রানা) এবং সিএনজির যাত্রী আনিছুর রহমান। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভটভটি চালক এমরান আলী জানান, “আমি তুষ নিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ সিএনজি আমাদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপর কিছুই মনে নেই-চোখ খুলে দেখি হাসপাতালে।”
সিএনজির যাত্রী আনিছুর রহমান বলেন, “সিএনজি চালক উল্টো পথে ও দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার জন্য সিএনজি চালকের অসাবধানতাই দায়ী।”
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপরজনের পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে সিএনজি চালকের বেপরোয়া গতির প্রমাণ মিলেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চকবনমালী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এই সড়কটিতে সংকীর্ণতা ও অতিরিক্ত যান চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভারী মালবোঝাই যানবাহন ও দ্রুতগতির সিএনজি চলাচল এই সমস্যা আরও তীব্র করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ মোল্লা বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা এই সড়কে দুর্ঘটনা দেখে আসছি। আজ আবার দুটো পরিবার শোকস্তব্ধ হয়ে গেল। প্রশাসনের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
এই দুর্ঘটনা শুধু দুটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি,বরং স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপদ সড়কের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরাও।