বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলের পাশে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েক দেশ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-১৪ ০৩:৩৭:১৬
ছবি সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে। ইরানের পাল্টা হামলার পর ইসরায়েলের আকাশে উড়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি মিত্র দেশ একযোগে সক্রিয়ভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র।
সিএনএন বলেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরান থেকে উৎক্ষেপণ হওয়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই গন্তব্যভ্রষ্ট করা হয়েছে। এই অপারেশনে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ নিজেদের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও রাডার সিস্টেম ব্যবহার করে সহায়তা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, “ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলো আগেও এই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে একযোগে কাজ করেছে, তবে এবার সহযোগিতা আরও ত্বরান্বিত ও সমন্বিতভাবে হয়েছে।”
এর আগেও, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট ছুঁড়েছিল। তখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, তাদের এবং মিত্রদের যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রায় ৯৯ শতাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। এবারও সেই পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টকম’ ও ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ারফোর্স এ ধরনের প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের অংশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, জর্ডান ও সৌদি আরবের রাডার শেয়ারিং ও আকাশ তথ্য প্রদানেও অবদান ছিল। যদিও দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মুখ খোলেনি।
এদিকে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে পূর্ণ সমর্থন দিই। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
ওয়াশিংটন, লন্ডন ও প্যারিস থেকে কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে, আরও আক্রমণাত্মক তৎপরতা চালালে কঠোর জবাব আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকেই সামনে রেখে চলছে কার্যক্রম।
ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছালেও এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোটের সক্রিয়তা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের এ সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের ভাঙাচোরা কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে-যেখানে যুদ্ধ রোধ নয়, যুদ্ধ প্রতিরোধই হয়ে উঠছে কৌশলগত অগ্রাধিকার।

 


এ জাতীয় আরো খবর