মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা সামরিক হামলা শুরু করেছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার পরপরই ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই হামলা তাদের ‘প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া’। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, "ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে আমরা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছি।"
বিবিসি, আল-জাজিরা এবং রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো ঠেকাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এরই মধ্যে তেল আবিব ও জেরুজালেমে সতর্কতা সংকেত (সাইরেন) বেজে উঠেছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনসাধারণের মধ্যে।
তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে—এমন তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। ইসরাইলের জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটে যায়।
ঘটনার আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো, ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা ইসরাইলের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং একজন পাইলটকে আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, এই পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অংশ এবং তারা যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের দৃশ্য ভিডিও ফুটেজসহ শিগগির প্রকাশ করবে।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিকচে আদ্রেয়ি এ দাবিকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান, “ইরান মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের চেষ্টা করছে। আমাদের বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ সুসংগঠিত ও তৎপর রয়েছে।”
ইসরাইলের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই দেশের জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে এবং জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তেল আবিব, হাইফা, বিয়ের শেভা, এবং আশদোদের কিছু অঞ্চলে সাময়িকভাবে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে উভয় পক্ষকে সংঘাত নিরসনের জন্য সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, "মধ্যপ্রাচ্যকে আরও একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক হবে।"
দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ আজ সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। পারমাণবিক কর্মসূচি, সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার, এবং লেবাননের হিজবুল্লাহকে ঘিরে এই উত্তেজনা বছরের পর বছর ধরে চললেও, এইমাত্র শুরু হওয়া পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
সারাংশে, ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান আজ যে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে তা শুধু একটি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং পুরো অঞ্চলকে নতুন করে যুদ্ধের আগুনে জ্বলিয়ে তুলতে পারে। তেল আবিবে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এখন শুধু আগুনের নয়, বরং একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও।