বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন মাত্রা: ইসরায়েল-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধ পরিস্থিতি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১৩ ১২:৪০:২৯
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-১৩ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে শতাধিক ড্রোন ছোড়া হয়েছে ইসরায়েল অভিমুখে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েলও চালিয়েছে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামক আক্রমণ, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) মুখপাত্র জানান, “গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের দিক থেকে শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। এখনো কিছু ড্রোন আকাশসীমায় রয়েছে, সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।”
তেলআবিব জানিয়েছে, ড্রোনগুলো মূলত ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও গ্যালিলি উপত্যকা অঞ্চলের দিকে ছোড়া হয়েছে। বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা ও রাডার ঘাঁটি এই অঞ্চলে অবস্থিত।
এর আগে শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়। অপারেশনটির নাম দেওয়া হয় ‘রাইজিং লায়ন’, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টার।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, যদিও ইরান এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইসরায়েলের হামলার পরপরই ইরানে সর্বাত্মক জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। রক্ষণশীল ও ধর্মীয় নেতৃত্ব থেকে হুঁশিয়ারি এসেছে-এই আক্রমণের “চরম মূল্য দিতে হবে” ইসরায়েলকে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, “ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে। তারা নিজেরাই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের জন্য কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, “তেহরানের হুমকি যতদিন থাকবে, ততদিন ইসরায়েলের প্রতিরোধ চলবে। দশকের পর দশক ধরে তারা আমাদের ধ্বংসের হুমকি দিয়ে আসছে। এবার আমরা আর পিছু হটব না।”
তিনি আরও বলেন, “অপারেশন রাইজিং লায়ন ছিল আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার অংশ। এটি কোনো আগ্রাসী মনোভাব নয়, এটি আত্মরক্ষা।”
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের ইতিহাসে এই মুহূর্তটি এক ভয়াবহ বাঁক। সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি ও প্রকাশ্য সামরিক লড়াই শুরু হলো দুই দেশের মধ্যে। এর আগ পর্যন্ত তাদের সংঘর্ষ মূলত ছিল ছায়া-যুদ্ধের মতো, সীমিত পরিসরে এবং প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ও চীন-তিনটি পরাশক্তিই উদ্বেগ প্রকাশ করে সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে ইসরায়েল বা ইরানকে সমর্থন জানায়নি।
ইসরায়েল ও ইরানে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বোমা আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ, এবং সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। ইরানেও রাজধানী তেহরানসহ বেশ কিছু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সিদ্ধান্তহীন বিশ্বব্যবস্থা ও আঞ্চলিক প্রতিহিংসার জালে আটকে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য। ইসরায়েল-ইরান সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে এর প্রভাব শুধু এই অঞ্চলে নয়, গোটা বিশ্বেই পড়বে-বিশেষ করে জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা ভারসাম্যে।
এখন প্রশ্ন, এই সংঘর্ষ থামবে কূটনৈতিক পথে, নাকি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে পরবর্তী ঘণ্টাগুলোতেই?

 


এ জাতীয় আরো খবর