শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

৪৮ দেশের ফুটবল মহাযুদ্ধ: ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল যারা

  • নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-১১ ২২:৪২:৪৬
ছবি সংগৃহিত

সকালের আলো,ঢাকা- ১১ জুন ২০২৫
অপেক্ষার প্রহর কমছে। রোমাঞ্চের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে পাঁচ মহাদেশে। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চ-২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এবারই প্রথমবার, ৩২ নয়, ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে রচিত হবে এই মহাযজ্ঞের নতুন অধ্যায়। আর সেই লড়াইয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্বসেরাদের কাতারে নাম লিখিয়ে ফেলেছে ১৩টি দেশ।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে রয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা, চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স, আর নানা চমক। কে যাচ্ছে, কে বাদ পড়ছে-সেই উত্তেজনার মধ্যেই একের পর এক দল নিজেদের ইতিহাস লিখে ফেলছে আগামী বিশ্বমঞ্চের স্ক্রিপ্টে।
২০২৬ বিশ্বকাপ হবে এক অনন্য আয়োজন। প্রথমবারের মতো তিন দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা-মিলিতভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই টুর্নামেন্ট। স্বাগতিক দেশের সুবিধা হিসেবে এই তিন জাতি কোনো বাছাইপর্ব না খেলেই মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে।
তিন দেশের ১৬টি শহরে ছড়িয়ে থাকা স্টেডিয়ামগুলোতে হবে ফুটবলের মহা উৎসব। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে টরন্টো, গুয়াদালাহারা থেকে নিউ ইয়র্ক-পুরো উত্তর আমেরিকা হয়ে উঠবে এক বিস্ময়কর ক্রীড়ামঞ্চ।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল মানেই আবেগ, প্রতিভা আর নাটকীয়তা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
আর্জেন্টিনা, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নেমেই প্রমাণ করেছে, তারা এখনো সেরা। শক্তিশালী পারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ালিফিকেশনের প্রথম টিকিট তাদের।
ব্রাজিল,পাঁচবারের বিশ্বজয়ী দলটি যেন নিজেদের হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছে। পেরুকে হারিয়ে তারাও নিশ্চিত করে ফেলেছে তাদের জায়গা।
ইকুয়েডর, হয়তো বড় দল নয়, কিন্তু ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তাদের উত্থান অব্যাহত। পেরুর বিপক্ষে ড্র-ই যথেষ্ট ছিল তাদের জন্য।
লাতিন আমেরিকার বাকি দলগুলো এখনো লড়াই করছে। উরুগুয়ে, চিলি ও কলম্বিয়ার মতো পরাশক্তিরা এখনো তাদের জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি।

বিশ্ব ফুটবলে এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়া ও ওশিয়ানিয়া অঞ্চল থেকে ৭টি দেশ এরই মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে কিছু চেনা নাম আর কিছু নতুন চমক।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া: এশিয়ার দুই পরাশক্তি বরাবরের মতোই আধিপত্য ধরে রেখেছে।
ইরান: মধ্যপ্রাচ্যের রক্তগরম দলটি কোয়ালিফাই করেছে নির্ভার ফুটবলে।
অস্ট্রেলিয়া: ওশিয়ানিয়া ছেড়ে অনেক আগেই এশিয়ায় এসেছিল, এবারও ফিরছে বিশ্বকাপের মঞ্চে।
উজবেকিস্তান ও জর্ডান: এই দুটি দল এবারে চমক হয়ে উঠেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে তাদের কোয়ালিফিকেশন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
নিউজিল্যান্ড: ওশিয়ানিয়া অঞ্চলের একমাত্র মুখ্য প্রতিনিধি হিসেবে নিউজিল্যান্ড আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে।

এই ১৩ দলের পাশাপাশি এখনো ৩৫টি টিকিট রয়েছে বাকি। আফ্রিকা, ইউরোপ ও কনকাকাফ অঞ্চলে লড়াই পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্বে। একেকটি ম্যাচ মানেই যেন একটি যুদ্ধ। এবার বিশ্বকাপে অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোর জন্য সুযোগ বাড়ানো হয়েছে, ফলে দেখা যেতে পারে অনেক নতুন মুখ।
ইতিমধ্যে ইতালি, নেদারল্যান্ডস, মালি, মরক্কো, কোস্টারিকা, সৌদি আরবের মতো দেশগুলো বাছাই পর্বের খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ: কবে কোথায় শুরু?
শুরুর তারিখ: ১১ জুন ২০২৬
ফাইনাল: ১৯ জুলাই ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে
ম্যাচ সংখ্যা: ১০৪টি (পূর্বের ৬৪ ম্যাচ থেকে অনেক বেশি)
গ্রুপ সংখ্যা: ১২টি গ্রুপ, প্রতি গ্রুপে ৪ দল

নতুন ফরম্যাট: ৩ দল নয়, প্রতি গ্রুপে থাকবে ৪টি দল, প্রথম ২টি দল যাবে পরবর্তী রাউন্ডে। মোট ৩২ দল খেলবে নকআউটে।
এই প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ-এ যেন শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সমতা, প্রতিভা ও স্বপ্নের এক গণমঞ্চ। যেসব দল কোয়ালিফাই করেছে, তারা ইতিহাস গড়েছে; যেসব দল এখনো লড়ছে, তাদের সামনে সেই সুযোগ।
এশিয়া থেকে আফ্রিকা, ইউরোপ থেকে দক্ষিণ আমেরিকা-২০২৬ বিশ্বকাপ হয়ে উঠতে চলেছে একুশ শতকের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল আসর।

 


এ জাতীয় আরো খবর