রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

ট্রাম্পের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর:১২ দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা,আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০৯ ২১:০১:৪৩
ছবি সংগৃহিত

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিতর্কিত অভিবাসন নীতিকে সামনে টেনে আনলেন আবারও। সোমবার (৯ জুন) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় একযোগে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কঠোর বাধা আরোপ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্যমতে, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও ডেমোক্র্যাট নেতারা একে ‘বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে-আফগানিস্তান, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়া, হাইতি, মিয়ানমার, শাদ, নিরক্ষীয় গিনি, কঙ্গো-ব্রাজাভিল ও ইরিত্রিয়া। এসব দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা প্রাপ্তি এবং প্রবেশ এখন থেকে পুরোপুরি স্থগিত।
তালিকার বাইরে কিছু দেশ-বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, তুর্কমেনিস্তান, টোগো ও ভেনেজুয়েলা-যাদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এদের জন্য অস্থায়ী শ্রমভিত্তিক ভিসা সীমিতভাবে কার্যকর থাকবে।
ট্রাম্প তার ঘোষণায় দাবি করেন, “সম্প্রতি কলোরাডোতে ইহুদিদের ওপর হওয়া সন্ত্রাসী হামলা” তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনাকে যুক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “এসব দেশের নাগরিকদের যাচাই-বাছাই সঠিকভাবে সম্ভব নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।” তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টিকে দেখছে একেবারেই ভিন্নভাবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক নতুন নিষেধাজ্ঞাকে “আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।
মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইয়াসামিন আনসারি, যিনি ইরানি বংশোদ্ভূত, এক্সে লিখেছেন:
“ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শুধু অমানবিকই নয়, বরং এটি প্রমাণ করে, একেকটি পরিবারের স্বপ্ন কীভাবে এক মুহূর্তে ভেঙে ফেলা যায়।”
অভিবাসনের আশায় অপেক্ষায় থাকা অনেক আফগান শরণার্থীর জীবন অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। আফগান নারীর অধিকারকর্মী মেহরিয়া (২৩) বলেন,
“আমরা সব ছেড়ে দিয়েছিলাম আমেরিকার প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে। এখন আমাদের চোখের সামনে দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের। একইসঙ্গে, নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বিদেশি কূটনীতিকদের ক্ষেত্রেও।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার প্রথম মেয়াদের বিতর্কিত ‘মুসলিম ব্যান’ নীতিরই পরবর্তী ধাপ। ওই নিষেধাজ্ঞার মতো এবারও তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অনেকগুলোরই জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মুসলিম।
সাংবাদিক ও বিশ্লেষক রেবেকা জেনিংস বলেন, “এই নীতির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যতটা স্পষ্ট, ততটাই দুর্বিষহ মানবিক দিক থেকে। এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে একধরনের বৈষম্যমূলক ফিল্টারিংয়ের মধ্যে ফেলা হচ্ছে।”
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, “বিশ্বব্যাপী হুমকির ধরন বিবেচনায় নতুন দেশকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।” এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি একদিকে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি উপস্থাপন করলেও, অন্যদিকে মানবিক বিবেচনায় প্রশ্নবিদ্ধ। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আমেরিকায় বসবাসে ইচ্ছুক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে না, বরং এটি আমেরিকার বৈচিত্র্য ও সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর