সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ঈদযাত্রার স্বস্তি ধরে রাখতে ছুটি পুনর্বিন্যাসের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২৭ ১৪:৩৩:৫৬
ছবি সংগৃহিত

পবিত্র ঈদুল আজহার আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যাত্রাবিরতিহীন ও দুর্ঘটনামুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি দাবি করেছে, ঈদের আগে ছুটি না বাড়ানো হলে এবারের ঈদযাত্রা হবে ভয়াবহ দুর্ভোগপূর্ণ এবং সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তিও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “ঈদের আগে ধাপে ধাপে মানুষকে বাড়ি পাঠাতে না পারলে একদিনেই দেড় কোটি মানুষকে পরিবহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
তিনি জানান, যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবার ঈদে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রা করবে। বর্তমান ছুটি বিন্যাস অনুযায়ী ঈদের আগের মাত্র ১ বা ২ দিনের সরকারি ছুটিতে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
সংগঠনটি মনে করে, বিদায়ী ঈদুল ফিতরের যাত্রা ছিল বিগত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক। তিনটি মূল কারণে তা সম্ভব হয়েছিল:
১. ঈদের আগে চারদিনের দীর্ঘ ছুটি,
২. পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি ও মাস্তানতন্ত্রের অনুপস্থিতি,
৩. আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

এই অভিজ্ঞতার আলোকে সমিতির সুপারিশ, ঈদের পরের (১১ ও ১২ জুন) ছুটি বাতিল করে ঈদের আগে (৩ ও ৪ জুন) ছুটি সংযুক্ত করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পশুর হাট ও পশুবাহী ট্রাকের চলাচলে ঈদের সময় সড়কে যানজট বাড়বে। অন্যদিকে, জাতীয় মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাহীনতা ঈদযাত্রীদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এছাড়া কালবৈশাখী মৌসুমে নদীপথেও যাত্রী ও জাহাজ নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সড়ক, রেল ও নৌপথে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের ১১ দফা সুপারিশ
১. ঈদের আগের ৩ ও ৪ জুন ছুটি ঘোষণা,
২. ফিটনেসবিহীন বাস-লঞ্চ চলাচল বন্ধ,
৩. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা,
৪. জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ,
৫. কালবৈশাখীতে নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান নিষিদ্ধ,
৬. সড়কে চাঁদাবাজি দমন,
৭. টোলপয়েন্টে যানজট কমানোর উদ্যোগ,
৮. পশুবাহী ট্রাক ও পশুরহাট কেন্দ্রিক যানজট নিরসন,
৯. মহাসড়কে নিরাপত্তা অডিট,
১০. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি,
১১. ডাকাতি-ছিনতাই ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি।
মোজাম্মেল হক বলেন, “ঈদের ছুটি শুধু আনন্দের জন্য নয়, বরং জীবন বাঁচানোর ও ভোগান্তি কমানোর জন্য। সরকারের নীতিনির্ধারকরা যদি বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আনেন, তাহলে এ দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, বিএনপি নেত্রী অপর্ণা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজসহ আরও অনেকে।


এ জাতীয় আরো খবর