শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হার চালু: নিয়ন্ত্রণ নয়, এবার নেতৃত্ব দেবে বাজার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৫-০৫-১৪ ১৬:৩১:২৭

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে ‘নির্দেশনা’ নয়, বাজারই হবে মূল চালক-এমন সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে মার্কিন ডলারের দাম আর ঠিক করবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক; নির্ধারিত হবে চাহিদা ও যোগানের স্বাভাবিক নিয়মে।
বুধবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিবর্তনের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, “এখন আমরা এমন এক অবস্থানে আছি, যেখানে বাজারকে পুরোপুরি নেতৃত্ব দিতে দেওয়া যায়। ডলারের সংকট দূর করতে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।”
এ সিদ্ধান্তের ফলে আমদানি-রপ্তানিকারক, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ-সবার জন্য স্বচ্ছতা ও বাস্তবতা-ভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। গভর্নর মনসুর বলেন, “বাজারভিত্তিক হারে ডলার নির্ধারণ হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় দামে ডলার কেনার প্রবণতা বন্ধ হবে। বাজারেই এখন যথেষ্ট ডলার রয়েছে।”
গভর্নরের ভাষ্যমতে, এ সিদ্ধান্তের পেছনে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও চীনের সরাসরি সহযোগিতা ও আস্থা কাজ করেছে। আইএমএফের ১.৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ছাড় পেলে জুন মাসের মধ্যেই বিদেশি সহায়তার বড় একটি অংশ হাতে আসবে।
তবে বাজার উন্মুক্ত হলেও সম্ভাব্য অনিয়ম রোধে সতর্ক রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর বলেন, “কিছু অসাধু চক্র বাজার অস্থির করতে চাইতে পারে, তবে তাদের ঠেকানোর মতো সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। ভয় নেই-আমরা সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম, এখন আমরা প্রস্তুত।”
শুধু এক্সচেঞ্জ রেট নয়, ব্যাংক খাতেও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নর জানিয়েছেন, লভ্যাংশ প্রদানের আগে প্রভিশন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ এটি না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে, অনিয়মের দায়ে কোনো ব্যাংকের বোর্ডও ভেঙে দেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা ব্যাংক বাঁচাতে আসিনি, এসেছি আমানতকারীদের সুরক্ষায়। দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে মার্জার বা অবসায়নও হবে বিকল্প পরিকল্পনার অংশ।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের হাতে ডলার ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির পথে এক বড় ধাপ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় তত্ত্বাবধান ও সময়মতো হস্তক্ষেপ না থাকলে, অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিনিয়োগের আগ্রহ, রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ অর্থনীতির জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত।

 


এ জাতীয় আরো খবর