জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পর তাঁদের পক্ষ থেকে একটি খোলাচিঠি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক আইনগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় বর্তমান কমিশনের আইনগত ভিত্তি আর বহাল না থাকায় তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে কমিশনের বিদায়ী সদস্য নূর খান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু তারা পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের আওতায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন এবং সেটি আর বহাল নেই,তাই পদত্যাগ করাকেই যৌক্তিক মনে করেছেন।
অন্যদিকে কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহী জানান,সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার ফলে পূর্ববর্তী কমিশনের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিলুপ্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন,সদস্যদের পাঠানো খোলাচিঠির বিষয়টি তিনি এখনো পর্যালোচনা করেননি।
খোলাচিঠিতে বিদায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ সদস্য নূর খান,ইলিরা দেওয়ান, মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিস স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন সংক্রান্ত একটি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনটি কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, নতুন এই আইনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালে প্রণীত মানবাধিকার কমিশন আইন পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি সংসদে পাস হয়।
কী-ওয়ার্ড: মানবাধিকার কমিশন,পদত্যাগ,আইন পরিবর্তন