ঢাকা: শিক্ষার্থীদের অব্যাহত আন্দোলন আর দাবি-দাওয়ার ঝড়ের মুখে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) অচেনা এক দৃশ্যের সাক্ষী হলো। শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ৯টার কিছু পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম মিয়া, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুরুল হুদা এবং একযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালক পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এত সহজে থামেননি। তাদের মূল দাবি ছিল-কেবল উপাচার্য ও সিএসই প্রধানের অপসারণ। ফলে বাকিদের পদত্যাগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়তে থাকে। রাত ৯টার পর থেকে মধ্যরাত ১টা পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ক্যাম্পাসের ভেতরে। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুসাব (প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ)-এর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে আলোচনায় ডাকা হয়। রাত দেড়টার দিকেও ক্যাম্পাসজুড়ে চলছিল আলোচনার মরিয়া প্রচেষ্টা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সিএসই বিভাগের প্রধানের ‘অমানবিক আচরণ’ ও ‘প্রশাসনিক উদাসীনতা’ তাদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটেছে শনিবারের এই অনশনে। শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন, যার মূল কেন্দ্রে ছিলেন অধ্যাপক নুরুল হুদা।
রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেন- উপাচার্য ও সিএসই প্রধান ছাড়া অন্য শিক্ষকদের নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবেন। তবে দুই অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তখনও আটকে রাখা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একযোগে উপাচার্য, ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালক পদত্যাগের এমন নাটকীয় ঘটনার পর, ইউআইইউ-র বাতাস ভারী হয়ে ওঠে অনিশ্চয়তায়। এখনো চূড়ান্ত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ।