ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২৫
দীর্ঘ ১৩ বছর পার হলেও এখনো উদঘাটিত হয়নি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির নির্মম হত্যার রহস্য। মামলাটির তদন্ত শেষ করতে ফের আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের সময় চাওয়ার আবেদনের পর এ আদেশ আসে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ এবং রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
টাস্কফোর্স তদন্তেও সময় পেছাচ্ছে
হাইকোর্টের নির্দেশে গত বছর গঠিত হয় চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয় এবং সিআইডি, র্যাব ও পুলিশের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তাদের প্রথম মেয়াদেই তদন্ত সম্পন্নে ব্যর্থতার পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো সময় বাড়ানো হলো।
একটি সংখ্যার দীর্ঘশ্বাস: ১১৩ বার সময় পেছানো
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১১৩ বার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের বিচার ইতিহাসে এক দৃষ্টান্তমূলক বিলম্বের চিত্র।
নতুন আইনজীবী, পুরনো প্রতিশ্রুতি
সম্প্রতি মামলার বাদী নওশের রোমান অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে প্রধান আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেন। শিশির মনির জানান,
“আমরা তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করব এবং উচ্চ ও নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”
র্যাবকে তদন্ত থেকে সরানোর প্রস্তাব
মামলার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে র্যাবকে তদন্ত থেকে সরানোর আবেদন করা হয়। বিষয়টি আলোচিত হয় হাইকোর্টেও।
প্রতীক্ষার অবসান হবে কবে!
এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনও সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অব্যাহত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাদের পরিবারের জন্য আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
পরবর্তী শুনানি: ১৫ অক্টোবর
পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৫ অক্টোবর। তখন জানা যাবে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়-ন্যায়বিচারের দোরগোড়ায়, না কি আরেক দফা প্রতিশ্রুতির ধোঁয়াশায়।