শরতের শিউলি গেল অভিমানে ঝরে, অবেলায়, নিদারুণ শোক নিয়ে
পাতায় পাতায় বাঁজে বেদনার সুর,থেকে থেকে শুনি তারই ছিন্ন বীণাবাদন
ভেবেছিলাম সে আসবে-- এই শরতের শিউলি ফোটা দিনে
নব বঁধুর দ্বিরাগমনের মতো নব আনন্দ ও সুখ গল্প বলবে নব সুখে
চেয়ে চেয়ে পার করি অনেক বসন্ত, পলাশ রাঙা ভোর হতেই শুরু হয় অপেক্ষা
রং ছড়ানো ফাল্গুনীর কত রুপ,কত রং জাগে মনে, কতভাবে তার শেষ নেই!
যেদিন উত্তাল ঢেউয়ের দোলায় দুলতে দুলতে ডুবে গেল অনেক স্বপ্ন
সমস্ত অভিমান গেল ভেসে, মনে মনে খুশির বন্যা বয়ে চলে
তুমি ভালো আছো বলে!
শ্বেতপদ্মের শুভ্র আলোয় মনের গহীন অন্ধকার গেল চিরতরে মুছে।
এক অনাবিল শান্তি! এক অসম্ভব সুখ অনুভব যেন ছুঁয়ে গেল আমায়।
সবুজ রঙের ছোঁয়া লেগেছে যেন মনের গহীন কোণে কোণে আর কোন রাগ নেই,
নবান্নের নতুন খুশিতে রঙিন আলোয় আলোকিত হলো সারা সকাল
আজও নতুন সকালে শুরু হলো নতুন অপেক্ষা, দিন যেন আর ফুরোয় না!
এক পলক যেন হাজার বছরের- সময়ের দাবি জানিয়েছে এট তার অধিকার
হাজার হাজার অভিমান সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পাহাড় সমান হয়ে গেছে
তবু কেউ নেই শুধুই ঘন ঘন পথপানে চেয়ে চেয়ে ক্লান্ত চোখে জাগে অজস্র প্রশ্নমালা
শ্রাবনের ধারায় অঝোরে ঝরতেই জাগে আজি সুখ নতুনভাবে
আর কত! শরতের শিউলি পড়বে ঝরে?,কত ফাগুনের অপেক্ষায় কাটাতে হবে?
কত ভাদরের অথৈজলে ভেসে যাবে স্বপ্ন গুলি ? কত কালবৈশাখী তান্ডবের পরে---
আসবে তুমি?
বকুলের মতোই ক্রমে ক্রমে নিস্তেজ, শুষ্ক ও গন্ধহীন, বর্ণহীন এক শেষ পথ যাত্রী আমি।
আজ মনে হয়,যেন কেউ নেই এই জীবনের অন্তহীন পথে এক নিঃসঙ্গ রেলের যাত্রী আমি।।